আজ অকাদেমিতে নাটক দেখে বেরোবার সময় এক কান্ড। একেবারে মুখোমুখি। মুখোমুখি না, পাশাপাশি। বৃষ্টি পড়ছে। সবাই আটকে পড়েছে করিডোরে। ভিড়ে ঠাসাঠাসি।
চল্লিশ বছর পর দেখা হওয়ার মানে কী? হয় বদলে যাওয়া চেহারা চিনতে না পারা, নয় তো সময় লাগা। তারপরেও বিভাস চিনতে পারল। অনুশ্রীও। যেন দুজনেই দুজনের চোখে তেইশ বছরে আটকে রয়েছে। নাকি ফিরে গেল?
কাঁধে শান্তিনিকেতনের ব্যাগ, বাতাসে ওড়া চুল, কলেজের পোর্টিকো, কলেজস্ট্রিটের ফুটপাথ, কফিহাউসের পকোড়া আর ঠিক এই ভাবে অকাদেমিতে নাটক দেখতে এসে বৃষ্টিতে আটকে পড়া। আজকের মতো।
এখন দুজনেরই সাদা চুল, চোখে ভারি চশমা, শরীরে মেদ। বিভাসের সঙ্গে বউ, তনুশ্রীর সঙ্গে বিদেশ থেকে দু’মাসের জন্য বেড়াতে আসা মেয়ে।
বিভাস বলল,‘কেমন আছিস্?’
অনুশ্রী বলল,‘তুই কেমন আছিস?’
বিভাস বলল,‘ওই আমার স্ত্রী দাঁড়িয়ে রয়েছে।’
অনুশ্রী বলল,‘ওই আমার মেয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।’
বিভাস গলা নামিয়ে বলল,‘তুই তো বলব বলে সেই যে কোথায় চলে গেলি...চল্লিশ বছর পেরিয়ে গেল।’
অনুশ্রী বলল,‘তুই তো শুনব বলে আমাকে খুঁজেই বের করলি না...চল্লিশ বছর পেরিয়ে গেল।’
বিভাস বলল,‘এখন বলবি?’
অনুশ্রী বলল,‘এখন শুনবি ?’
দুজনেই একটু হাসল। বৃষ্টি কমে এসেছে। এবার বেরোতে হবে।
আজ বিভাসবাবু, অনুশ্রীদেবী কেউই নাটক দেখতে যাননি। বিভাসবাবু গত তিনমাস অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। অনুশ্রীদেবী গত এক বছর বিদেশে মেয়ের কাছে। শুধু দুজনেরই জানালার ওপাশে বৃষ্টি হচ্ছে।
ইলাসট্রেশনঃ স্মৃতীশ মণ্ডল
