গল্পকুটির ওয়েব ডেস্ক|

করোনা দ্রুত হারে গ্রাস করছে পৃথিবীর নানা দেশকে। সেই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়ার্ল্ডো মিটারের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩,৩৬,৮৫১ জন। তার পরেই রয়েছে স্পেন, ইতালি, জার্মানি এবং ফ্রান্স। এমনকি ভারতেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ রুখতে এদেশে সরকারি তরফে ২১ দিন ব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই লকডাউন পূর্ণ হতে আর মাত্র ৮ দিন বাকি। আর এখানেই শুরু হয়েছে জল্পনা, লকডাউনের স্থায়িত্বকাল আরও বাড়ানো হবে কি না? হলে তা কতদিনের হতে পারে, এই ধরণের নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লোগো যুক্ত লকডাউনের একটি বিজ্ঞপ্তি। শুধু তাই নয়, সেখানে আরও বলা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত লকডাউনের সেই প্রোটোকলই মেনে চলছে ভারত। তাই ১৪ মার্চের পর কবে থেকে আবার লকডাউন হতে পারে সেই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।   

সেই তথ্যে বলা হয়েছে যে, প্রথম ধাপে, এক দিনের লকডাউন পর্যবেক্ষণ করা হবে। তারপরে দ্বিতীয় ধাপের ২১ দিনের লকডাউন হবে। এরপর ৫ দিনের জন্য লকডাউন তুলে নেওয়া হবে। ৫ দিন যাওয়ার পর, লকডাউনের তৃতীয় ধাপটি কার্যকর করা হবে, যা ২৮ দিন ব্যাপী চলবে। এটি পূর্ণ হলে আবার ৫ দিনের জন্য লকডাউন বন্ধ থাকবে এর পরেও সংক্রমণ ছড়ালে আরও ১৫ দিনের চূড়ান্ত লকডাউন জারি হবে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের একটি টুইট থেকে আসল সত্য সামনে আসে। সেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো লকডাউনের ওই বিজ্ঞপ্তি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে লকডাউনের সময়কাল বিষয়ক এ জাতীয় কোনও প্রোটোকল প্রকাশ করা হয়নি।

এমনকি ভাইরাল হওয়া লকডাউনের সেই বার্তা বিশ্বের কোনো দেশই অনুসরণ করছে না। লকডাউনের জন্য প্রতিটি দেশের নিজস্ব কিছু নিয়মকানুন রয়েছে, যা বিজনেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছিল।

তবে এটা সত্যি যে, ২২ মার্চ এক দিনের জন্য ভারত লকডাউন হয়েছিল, যদিও তা প্রকৃত অর্থে লকডাউন ছিল না, তা ছিল জনতা কারফিউ। তারপর আরও ২১ দিনের জন্য লকডাউন জারি হয়, যা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত স্থায়ী করা হয়েছে। এটাই মিল রয়েছে ওই ভাইরাল হওয়া বার্তার সঙ্গে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব রাজীব গৌবা বলেছিলেন যে, এখনও পর্যন্ত লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর কোনও তথ্য তাঁর কাছে নেই। এ বিষয়ে সরকার আরও কী পদক্ষেপ নেবে তা আগে থেকে বলা মুশকিল।

ছবিঃ সোশ্যাল মিডিয়া