গল্পকুটির ওয়েব ডেস্ক|

ভারতে করোনার সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে জারি হয়েছিল লকডাউন। ফলে হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় কলকারখানা, স্কুল-কলেজ, অফিস, রেস্তোরাঁ সহ পরিবহন ব্যবস্থাও। আর এই পরিস্থিতিতে সবথেকে বেশি বিপাকে পড়েন ভিন রাজ্যে কাজ করতে আসা শ্রমিকরা। গাড়ি-ঘোড়া  বন্ধ থাকায় এরা অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারে না। তাই এই সকল শ্রমিকরা যে সংস্থার হয়ে কাজ করত সেখানে থেকে এবং সরকারি তরফে, জরুরি অবস্থা চলাকালীন এদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। ঠিক এমনই দৃশ্য দেখা যায় পূর্ব বর্ধমানেও। উত্তরবঙ্গ সংবাদের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মুহূর্তে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর অঞ্চলের ‘গোপালপুর মুক্তকেশী বিদ্যালয়ে’ মোট ৩৬৪ জন পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর এই সকল শ্রমিকদের খাবারের যোগান দিতে এগিয়ে আসলেন হবু দম্পতি, সঙ্গীতা ঘোষ এবং অরিজিত পাল। তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানের যাবতীয় খরচ-পাতির সমস্ত অর্থ দিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য খাদ্য সামগ্রী কিনে তুলে দিলেন প্রশাসনের হাতে।

জানা গিয়েছে, ওই হবু দম্পতির জামালপুর ব্লকের আবুজহাটি-১ গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা উভয়েই সমাজ কর্মী। পরিকল্পনা মাফিক আগামী ১৭ এপ্রিল তাঁদের দুজনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তবে লকডাউন জারি হতে সব কিছুই বদলে যায়। বিভিন্ন রাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে ব্যার্থ হন। যেহেতু তাদের কাজ বন্ধ তাই অর্থের যোগানও নেই। সব দিক থেকেই করুণ পরিস্থিতির শিকার হয় শ্রমিকরা। এদের মধ্যে কয়েকশো শ্রমিক আবার স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে বাড়ি পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। ওই শ্রমিকদেরই একটা বৃহদাংশ জামালপুরের মসাগ্রাম ও জৌগ্রামে এসে পৌঁছায়। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ এবং ব্লক প্রশাসন আধিকারিকরা খাদ্য এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করেন তাঁদের। ওই দিন থেকেই ৩৬৪ জন পরিযায়ী শ্রমিকগন রয়েছেন জামালপুরের গোপালপুর মুক্তকেশী বিদ্যালয়ের অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে। বিয়ের কিছুদিন আগে বাড়ির এলাকায়, পরিযায়ী শ্রমিকদের করুণ অবস্থা দেখে ওই হবু দম্পতি ব্যাথিত হন এবং এগিয়ে আসেন ওই শ্রমিকদের সাহায্য করার জন্য।

তাঁরা উভয়েই সিদ্ধান্ত নেন যে, আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করবেন না তাঁরা। পূর্ব পরিকল্পিত বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য রাখা সমস্ত অর্থ দিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য খাদ্য সামগ্রী কিনবেন ঠিক করেন। তাঁদের এই সিদ্ধান্ত কথা তাঁরা স্থানীয় ব্লকের বিডিওর কাছে জানান। ওই হবু দম্পতির সেই মানবিক প্রস্তাব শোনার পর বিডিও সম্মতি দিলে, গত মঙ্গলবার অর্থাৎ ৭ এপ্রিল সঙ্গীতা ও অরিজিত তাঁদের পরিকল্পনা মতো খাদ্য সামগ্রী কিনে এনে ব্লক প্রশাসনের হাতে তুলে দেন। হবু দম্পতির এমন মানবিক কার্যের প্রশংসা না করে থাকতে পারেননি প্রশাসন। তাদের কথায়, এই করুণ পরিস্থিতিতে ওই যুগল নিজেদের ব্যাক্তিগত স্বার্থ এবং আশার বলিদান দিয়ে মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। তাঁদের এই নজিরবিহীন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সবাই যদি এভাবেই অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে এই মানুষগুলোর মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন তুলে দেওয়া যাবে।