হঠাৎ জনার্দন বাবু পাঁচ মূড়া গ্রামে এসেছে । সকালে ঘুম থেকে উঠে জনার্দন বাবুর মন খারাপ করছে ।কাল 23rd- সেপ্টেম্বর , মালতির জন্ম দিন । কিন্ত তার প্রিয় মানুষ নেই তার কাছে। সেই দিন অর্থাত 24 th আগস্ট বাবলু, তার বর আগুনে পুড়ে বিপজ্জনকভাবে মারা যায় । সেই দিনের কথা মনে পরে গেলে খুব মন খারাপ হয় । জনার্দন বাবু ভাবতে ভাবতে ঘর থেকে বেরিয়ে উঠানের দিকে যেতে লাগল । বাইরে পেছনের দিকে বাঁশবন , শনশনে হাওয়া বইতে লাগল । তখন বাবলুর সাথে দেখা । সে থতমত খেয়ে ভয়ে কাঁপতে লাগল । তখন বাবলু কে বলে যে সে কেন এ বাড়িতে, তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলতে চান। জনার্দন বাবু বলেন তুমি কি আমার কথা শুনতে চাও ? তাহলে এস ।তখন তিনি তার ঘরে নিয়ে গেলেন বাবলু কে । তারপর তিনি বাবলু কে চেয়ারে বসতে বলে ঘটনা বলতে শুরু করলেন ।
মালতির আর বাবলুর তিল তল করে গড়ে তোলা কষ্টের সংসার । বাবলু রিকশা চালায় আর মালতি কাজ করে লোকের বাড়িতে । দিন আনে দিন খায় খুব ভালো যায় ।
মালতি তখন যে বাড়িতে কাজ করে তার মালিক বড়ো গদির মালিক । তার বড়ো ধানের আরত আছে । সে সুদে টাকা ধার দেয় ,সুদের ব্যবসা করে । মালিক জনার্দন বাবু (অর্থাত আমি ) খুবই রগচটা খিট খিটে বদ মেজাজী লোক। এক কথায় আমি বদ চরিত্রের লোক ।আমি যা করব বলে মনে করি তাই করতাম ।আমার টাকা শোধ করতে না পারলে আর রক্ষা থাকতো না ।আমার লোকেরা মারধর করে ঘরদোর পুড়িয়ে দিত ।আমি রাতে নাচ মহলে গিয়ে টাকা ওড়াতাম বন্ধুদের সাথে ।
মালতি আমার বাড়িতে বাসন মাজা , কাপড় কাচা ইত্যাদি কাজ করত । এই ভাবে দিন চলতে থাকে । এক দিন তার বর ,বাবলুর মরণ রোগ ধরে ক্যানসার ( গলায় ক্যানসার )। সে আর কাজ করতে পারে না, তাই তার শরীর আর চলে না । মালতি তার রোজকার করা পয়সা খরচ করে বরকে চিকিৎসা করাতে লাগলো কিন্তু কিছুই হলো না ,শরীর দুর্বল হয়ে যেতে থাকে । মালতির এই দিকে প্রচুর পরিমাণে টাকা খরচ হতে লাগলো । কিন্তু কিছুই হলো না ।সে সুদে টাকা ধার করে বরের চিকিৎসা করায় ।বাবলুর শরীর জবাব দিতে থাকে । বাবলু সেই মরণ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বাবলু রাতে গায়ে আগুন দিয়ে দেয় । মালতি তার পর টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করে, কিন্তু কিছুই জোগাড় করে উঠতে পারেনা । এর জন্য সুদের হার বাড়তে থাকে ফলে মালতি সেই টাকা শোধ করতে পারে না ।
মালতি সুদের টাকা দিতে না পারার জন্য তার পর থেকে আমার ( জনার্দন বাবু র ) বাড়িতে থাকতে শুরু করে । মালতি আমার বাড়িতে আসার পর আমি আর বাইরে বেরোয়ি না। তাই বন্ধু রাধেশ্যাম বাবু রোজকার আসে , সে মদ খেয়ে রোজকার চলে যায়। হঠাৎই এক দিন তার সাথে তোমার মা সম্পর্কে লিপ্ত হন , বাবলু তুমি জন্ম নাও । তোমার মা ছেলে হয়েছে বলে তার নাম রাখে বাবলু। তারপরে ,সম্পর্ক বুঝতে না পেরে তোমার বয়স বাড়ার সাথে সাথে তোমাদের এই খানে এই গ্রামে নিয়ে আসি।
বাবলু তখন কেঁদে বলে আপনি আমার বাবা । সে দিন থেকেই সম্পর্কের টানা পোড়েন ঠিক হয়ে যায়। বাবলু ঘটনা শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।

কমেন্টস
Joghonno lekha