গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
করোনার সংক্রমণ আটকাতে দেশে জারি হয়েছে লকডাউন। লকডাউন ঠিক মতো পালন হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য রাস্তায় রাস্তায় কড়া পাহারায় নেমেছেন পুলিশ। কেউ ইচ্ছাকৃত সেই নিয়ম লঙ্ঘন করলে উপযুক্ত শাস্তিও পাচ্ছে। ঠিক একই ছবি বাংলাতেও।
চারিদিকে বারবার প্রচার করা হচ্ছে ‘খুব প্রয়োজন না পড়লে দয়া করে কেউ বাইরে বেরোবেন না।‘ তবুও অনেকেই অসতর্ক হয়ে নিয়ম মানছেন না। লকডাউন জারি থাকার পরেও তারা বাড়ির বাইরে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকেরই দাবি টানা ২১ দিন দেশ লকডাউন রেখে কী লাভ হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে নতুন দিশা দেখাল ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ’-এর (আইসিএমআর) একটি রিপোর্ট। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, গবেষকরা ভারতে করোনার সংক্রমণের উপর একটি সমীক্ষা করেছিলেন। তার রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, সবাই যদি ঠিক মতো লকডাউন মেনে চলেন তাহলে দেশে সার্বিকভাবে ‘কোভিড-১৯’-এর সংক্রমণ কমবে ৬২%। এখানেই শেষ নয়, এটি মেনে চললে করোনা সংক্রমণের গতিও ৮৯% কম হবে।
ওয়ার্ল্ডো মিটারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এ দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭০০ ছুঁইছুঁই। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৫ জন। ভারতে করোনার সংক্রমণের আগে চিন, ইতালি এবং ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকাতে এর সংক্রমণ ছড়ায়। তবে ওই সব প্রথমের দিকে বেশি মাথা ঘামায়নি এই ভাইরাস নিয়ে। তার কয়েক সপ্তাহ পর যখন এই ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত হারে ছড়াতে শুরু করে তখন পরিস্থিতি তাদের হাতের বাইরে চলে যায়। এর ফল স্বরূপ হাজার হাজার মানুষের মধ্যে সংক্রমণ এবং মৃত্যু মিছিল শুরু হয়।
বর্তমানে চিনে ৭০,০০০-এর বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও পুরোপুরি থামেনি সংক্রমণ। অন্যদিকে ইতালিতে বাড়ছে মৃত্যুর হার। এখন সে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪,৩৮৬ হাজার। ইতালির মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭,৫০৩ জন। আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬৮,৫৮১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১,০৩৬ জনের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যান্য দেশের সংক্রমণের তুলনায় ভারতে সংক্রমণের হার অপেক্ষাকৃত কম। এর একমাত্র কারণ হল ভারতে এখনও পর্যন্ত গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়নি। সরকার লকডাউন জারি করায় মানুষ কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সরকারি তরফে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা শুরু করা হবে। এগিয়ে আসছেন আবসর প্রাপ্ত ডাক্তাররাও। পাশাপাশি রয়েছে প্রশাসনিক নিরাপত্তা।
তাই করোনার সংক্রমণ রুখতে আমাদের সকলেরই উচিত লকডাউনের নিয়ম মেনে চলা। এই দেশে একবার গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে তা আটকানো সম্ভব হবে না। তাই সরকারের নির্দেশিকা মেনে বাড়িতে থাকাটাই কাম্য।
