গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সারাবিশ্বে ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এমনকি ভারতেও দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে এই রোগ। ২৩ মার্চ জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি হিসাব অনুযায়ী, সংক্রমনের প্রথম দিকে, ৬৭ দিনে এই ভাইরাস ১ লক্ষ মানুষের শরীরে ছড়িয়ে ছিল। এরপর ওই ভাইরাস ১১ দিনের মধ্যে এক লক্ষ মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়ায়। তারপরেই ৪ দিনের মাথায় ১ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হয় এই ভাইরাসে। এর থেকে বোঝাই যাচ্ছে কত দ্রুত হারে সংক্রমণ হচ্ছে এই ভাইরাসের।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সেই পরিসংখ্যান ইতিমধ্যেই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এনডিটিভির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে করোনাভাইরাস (COVID-19) কত দ্রুত ছড়াতে পারে সে বিষয়ে একটি আনুমানিক পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ-এর (Indian Council of Medical Research) জার্নালে ২৭ ফ্রেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে ‘কোভিড -১৯’ –এর সংক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দিল্লিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৫ লক্ষ। কলকাতা এবং বেঙ্গালুরুতে সেই সংখ্যা ছুঁতে পারে ৫০ হাজারে।
ওই সমীক্ষায় আরও অনুমান করা হয়েছে, যদি না অবিলম্বে সকলে সতর্ক হওয়া যায়, আগামী ৫০ দিনের মধ্যে দিল্লিতে এই পরিসংখ্যান ভয়াবহ আকার নিতে পারে। সংক্রমণের জন্য পরবর্তীকালে দেশে কী কী পরিস্থিতি হতে পারে এর জন্য কতটা সংকট হতে পারে তার ধারণা পেতেই এই ধরনের হিসাব কষা হয়।
প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত ভারতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সতর্কতা অবলম্বন করতে পশ্চিমবঙ্গ সহ ১৯টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে লকডাউন জারি করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ডো মিটার্স-এর তথ্যানুযায়ী সব মিলিয়ে দেশজুড়ে এখনও পর্যন্ত ৫১১টি করোনা আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩৭ জন। সংক্রমণ রুখতে বন্ধ রাখা হয়েছে রেল এবং বিমান পরিষেবা। পাশাপাশি লকডাউন ভঙ্গ করলে উপযুক্ত শাস্তি জারি করা হয়েছে। পশিমবঙ্গেও করা নজরদারি চালানো হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে।
তবে আমাদের হাতে এখনো সময় রয়েছে, আমরা সকলে চাইলেই করোনার সংক্রমনের গতি রোধ করতে পারি। এই সংক্রমণ ঠেকাতে আমাদের নিয়ম মেনে ঘরে থাকতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত যাবতীয় সতর্কতা মেনে চলতে হবে।
ছবিঃ গেটি ইমেজ

