গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|

করোনার মোকাবিলা করতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে নানা গবেষণা। কিছুদিন আগেই ইউরোপের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের কথা জানিয়েছেন। এখন সেই প্রতিষেধক নিয়ে চলছে ক্লিনিকার টেস্ট। করোনার ওই প্রতিষেধকে কাজ হবে বলে আশাবাদী গবেষকরা। অপরদিকে পিছিয়ে নেই ভারতও। করোনার সঙ্গে লড়তে ভারত থেকে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী। এছাড়াও চলছে প্লাজমা থেরাপির ক্লিনিকাল টেস্ট, যেখানে দিল্লির একটি পরীক্ষায় ইতিমিধ্যেই পাওয়া গিয়েছে সবুজ সংকেত। চেষ্টা চলছে উপযুক্ত ওষুধ এবং প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্যেও। এর মধ্যেই করোনার মোকাবিলায় নতুন দিগন্ত দেখাল একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রী। তার আবিষ্কৃত এক বিশেষ মাস্ক ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থার স্বীকৃতি পেয়েছে। খুব শীঘ্রই বাজারেও আসতে চলেছে সেই বিশেষ মাস্ক।

একাদশ শ্রেণীর ওই ছাত্রীর নাম দিগন্তিকা বসু। মেমারির সুলতানপুরের বাসিন্দা দিগন্তিকা পূর্ব বর্ধমানের মেমারি বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দির শাখা ২-এর একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়া। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সে ‘পিওর এয়ার প্রোভাইডার অ্যান্ড ভাইরাস ডেস্ট্রয়ার মাস্ক’ (Pure Air Provider and Virus Destroyer Mask) তৈরি করেছে। তার সেই অভিনব আবিষ্কার স্বীকৃতি পেয়েছে কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। করোনার মোকাবিলায় ওই মাস্ক ব্যবহার করলে উপকৃত হবেন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা।

বিশেষ সেই মাস্ক দুটি অংশে বিভক্ত। যার একটি অংশ প্রশ্বাস নেওয়ার সময় বায়ুর সঙ্গে মিশে থাকা ধূলিকণা এবং জলকণাকে আটকে দেয় এবং যেকোনো ভাইরাসের লিপিড প্রটিনকে ধ্বংস করে। অন্য অংশটির মাধ্যমে বিশুদ্ধ বায়ু মাস্ক হয়ে ফুসফুসে যায়। নিঃশ্বাস ত্যাগর ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ পদ্ধতি। যার সাহায্যে নিমেষেই ধ্বংস হয়ে যাবে যেকোনো ভাইরাস।

এই নতুন মাস্ক তৈরিতে খরচ হয়েছে মাত্র ২০০ টাকা। অভিনব সেই মাস্ক ব্যবহার করলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে দিগন্তিকা। ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের ভাইরোলজিস্টরাও আশাবাদী এই মাস্কটি নিয়ে। এছাড়াও ওড়িশার বীর সুন্দর সাই ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির আইডিয়া ইনোভেশন শাখা ‘হ্যাক ফর কোভিড-১৯’-এর তালিকাভুক্ত হয়েছে এই নয়া আবিষ্কৃত মাস্ক।

এই মাস্কটি শুধু মাত্র যে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীরাই ব্যবহার করতে পারবে তা নয়, সাধারণ মানুষজন, বিশেষ করে করোনা আক্রান্ত রোগীরা এই মাস্ক ব্যবহার করলে তাদের শ্বাসপ্রশ্বাস এবং কাশি বা হাঁচির সময় নির্গত হওয়া ড্রপলেটে থাকা ভাইরাসকে সহজেই ধ্বংস হয়ে যাবে। ফলে সংক্রমণও ছড়াবে না সহজে। অপরদিকে দাম অনেকটাই কম হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ এই মাস্ক ব্যবহার করে সুস্থ থাকতে পারবে।     

দিগন্তিকা এর আগেও তার বিভিন্ন আবিষ্কারের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে বহুবার। যেমন সুন্দরবনের মধু সংগ্রহকারীদের বাঘের আক্রমণের হাত থেকে নিস্তার পেতে এক বিশেষ ধরণের চশমা এবং জুতো বানিয়ে নজির গড়েছিল এই বঙ্গ কন্যা। এবার করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় দিগন্তিকার এই মাস্ক নয়া দিগন্ত দেখাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর থেকে এই মাস্ককে স্বীকৃতি দেওয়ার পর, দিগন্তিকার সম্মতি নিয়ে ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের স্বশাসিত সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইনোভেশন ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়া’ দ্বায়িত্ব নিয়েছে এই বিশেষ মাস্ক উৎপাদন করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার। খুব শীঘ্রই ওই মাস্ক বাজারে আসতে চলছে।  

ছবিঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস