গল্পকুটির ওয়েব ডেস্ক|
মুম্বইয়ে বসবাসকারী এক মহিলার আবেদনে রাজস্থান থেকে উটের দুধ সরবরাহ করল ভারতীয় রেলওয়ে। ওই মহিলার ছোট্ট সন্তান অটিজমে আক্রান্ত। একমাত্র উটের দুধ ছাড়া অন্য দুধ ওই বাচ্চাটি খেতে পারে না। কিন্তু লকডাউনে মধ্যে কোথাও উটের দুধের জোগান না পেয়ে তিনি টুইটারে আবেদন করেন।
এই সম্পূর্ণ বিষয়টি নজরে আগে সিনিয়র আইপিএস অফিসার অরুণ বোথরা টুইট থেকে। সম্প্রতি তিনি টুইট করে জানিয়েছেন, ‘২০ লিটার উটের দুধ গতকার রাতে মুম্বই পৌঁছে গিয়েছে। পরিবারটি ওই দুধ শহরের আরও একটা গরীব ব্যক্তির সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে।‘ তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন উত্তর-পশ্চিম রেলওয়ের চিফ প্যাসেঞ্জার ট্র্যাফিক ম্য়ানেজার তরুণ জৈনকে।
আবেদনকারী মহিলার নাম রেণু কুমারী। তিনি মুম্বইয়ের বাসিন্দা। শিশু সন্তানের জন্য উটের দুধের অভাবের কথা তিনি টুইটারে লিখে ট্যাগ করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে। সেই টুইতে তিনি লিখেছিলেন, ‘স্যর, আমার সাড়ে তিন বছরের ছোট্ট ছেলে অ্যালার্জি এবং অটিজমের শিকার, ও বেঁচে রয়েছে উটের দুধ এবং কয়েকটি ডাল শস্য খেয়ে। কিন্তু লকডাউন শুরুর পর আমার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ উটের দুধের জোগান ছিল না। সাদরি (রাজস্থান) থেকে আমায় উটের দুধ বা তার গুঁড়ো দুধ পেতে সাহায়তা করুন।‘
শিশুটির মায়ের এমন করুণ আবেদন দেখার পর প্রশাসনিক মহলে এ বিষয়ে পরামর্শ করা হয়। এরপর সিনিয়র আইপিএস অফিসার অরুন বোথরা যোগাযোগ করেন রাজস্থানের অদ্ভিক ফুডসের সঙ্গে।সেখান থেকে ২০ লিটার উটের দুধের জোগান হলে উত্তর-পশ্চিম রেলওয়ের চিফ প্যাসেঞ্জার ট্র্যাফিক ম্য়ানেজার তরুণ জৈন আজমেঢ়ের সিনিয়র ডিসিএম-এর সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সিদ্ধান্তে লুধিয়ানা এবং মুম্বইয়ে চলাচলকারী পার্সেল কার্গো ট্রেনকে রাজস্থানের ফালনা স্টেশনে দাঁড়নোর ব্যাবস্থা করানো (অন্যান্য সময় ট্রেনটি ওই স্টেশনে দাঁড়ায় না।) সেখান থেকে উটের দুধ সংগ্রহ করার পর তা মুম্বইয়ের বান্দ্রায় ওই মহিলাকে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।
আইপিএস সিনিয়র অফিসার অরুণ বোথরা যদি টুইট না করতেন তাহলে ভারতীয় রেলের এই স্বহৃদয় রূপটি হয়তো আমাদের সামনে আসতো না। এরকম কঠোর পরিস্থতিতে তারা যেভাবে সাহায্য করলেন সত্যিই তা প্রশংসনীয়।
ছবিঃ পিক্সাবে (প্রতীকী ছবি)
