গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|

১০৬ বছর। কিন্তু একেবারেই তরতাজা তিনি, না হলে কি এমনটা সম্ভব! প্রথমে ৪ বছর বয়সে স্প্যানিশ ফ্লুয়ের ধাক্কা, আর বার্ধক্যে করোনার। তবে উভয় মারণ দৈত্যের সঙ্গে লড়াই করে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এখন। ভাবা যায়! এর থেকেই বোঝা যায়, শুধুমাত্র শারীরিক নয় মানসিক জোর থাকাও সমানভাবে প্রয়োজন।    

১০৬ বছরের এই বৃদ্ধ দিল্লির বাসিন্দা। সম্প্রতি তাঁকে রাজীব গান্ধি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। এই বৃদ্ধের সঙ্গে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যারাও কোভিড – ১৯ আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হল, এত বয়স্ক হয়েও নিজের ছেলের সুস্থ হওয়ার আগেই তিনি সেরে উঠেছেন এই বিধ্বংসী মারণ ভাইরাসসে হারিয়ে। এনডিটিভি-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ থেকে ১০২ বছর আগে অর্থাৎ ১৯১৮ সালে মহামারী স্প্যানিশ ফ্লুয়ের কবলে পড়েছিলেন এই বৃদ্ধ। তখন তিনি ছিলেন মাত্র ৪ বছরের ক্ষুদে! সারা বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ মানুষ ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। তবে সেই ক্ষুদে বয়সেও প্রাণঘাতী স্প্যানিশ ফ্লু-এর সঙ্গে লড়ে তিনি সুস্থ হয়েছিলেন। এবার জীবনের শেষকালেও অপর প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরেও তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ। তাই বলতেই হয়, ওনার শরীর এবং মনের জোর রয়েছে বটে।

জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধর করোনা আক্রান্ত ছেলের বয়স ৭০ বছর, তবে ছেলের আগেই বাবা দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। যদিও ওনার ছেলে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যারাও এখন সুস্থ। ওই বৃদ্ধের মনের জোরকে স্যালুট জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, স্প্যানিশ ফ্লু ১৯১৮-১৯১৯ সালে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। এর ফলে বিশ্ব জুড়ে আনুমানিক ৪০ মিলিয়ন মানুষ মারা গিয়েছিল। তবে ভারতে ওই রোগের প্রকোপ এবং মৃত্যুহার অনেকটাই কম ছিল।

রাজীব গান্ধি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা ১০৬ বছরের ওই বৃদ্ধের বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছাকে স্যালুট জানিয়েছেন। এ বিষয়ে একজন চিকিৎসক বলেছে, “আমরা সঠিক জানি না ওই বৃদ্ধ স্প্যানিশ ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না। কারণ ওই সময় দিল্লি এত উন্নত ছিল না, সেখানে হাসপাতালের সংখ্যাও খুবই কম ছিল। তাই এ বিষয়ে সঠিক পরিসংখ্যান আমারা জানতে পারিনি। কিন্তু আশ্চর্য হয়েছিলাম ১০৬ বছর বয়স্ক ওই বৃদ্ধের জীবনীশক্তি দেখে।”

তথ্যসূত্রঃ এনডিটিভি

ছবিঃ শাটারস্টক