গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে জগতের রক্ষাকর্তা হলেন ভগবান বিষ্ণু। তাই হিন্দুদের ঘরে ঘরে পূজিত হন তিনি। ভারতের প্রতিটি গ্রামে ও শহরে দেখা যায় একাধিক বিষ্ণু মন্দির। কিন্তু অবাক করার বিষয় হল, ভগবান বিষ্ণুর সবচেয়ে উঁচু মূর্তিটি ভারতে নয়, দেখা যায় মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায়। মূর্তিটির নাম ‘দ্য গরুড় বিষ্ণু কাঞ্চন স্ট্যাচু‘, ৪৬মিটার উঁচু পাদভূমি সহ উচ্চতা ১২২ মিটার, যা স্ট্যাচু অফ লিবার্টির থেকে প্রায় ৩০ মিটার উঁচু। এবং প্রস্থ ৬৪ মিটার।

এই মূর্তি নির্মাণের পিছনে যে গল্প রয়েছে, তাও বেশ মজাদার। জানা যায়, ১৯৭৯ সালে ন্যোমান নুয়ারতা নামের এক ইন্দোনেশীয় ভাস্কর ইচ্ছা প্রকাশ করেন যে নিজের উত্তরপুরুষদের জন্য তিনি ইন্দোনেশিয়ায় এক বিশালাকার মূর্তি স্থাপন করতে চান, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। তার ইচ্ছাকে বাস্তবরূপ দেওয়ার জন্য ১৯৮০ সালে একটি কোম্পানি গঠিত হয়। নানান পরিকল্পনার পর ইন্দোনেশিয়া সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে ১৯৯৪ সালে শুরু হয় মূর্তি নির্মাণের কাজ। কিন্তু অর্থাভাবে ওই দশকের শেষদিকে বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণকাজ। এরপর ২০১৩ সালে আলম সুতেরা রিয়েলিটি(ASR) সংস্থার অর্থ সাহায্যে আবার তা শুরু হয়।
বর্তমানে বিশ্বের জনপ্রিয়তম ভ্রমণস্থানের মধ্যে একটি হল ইন্দোনেশিয়ার বালি। একবছরে প্রায় ৫ মিলিয়ন মানুষ ঘুরতে আসেন এই সমুদ্র ঘেরা শহরে। বালির ‘ দ্য গরুড় বিষ্ণু কাঞ্চন পার্কে’ ২০১৮ সালে গরুড় পক্ষীর উপর অধিষ্ঠিত ভগবান বিষ্ণুর এই মূর্তিটির উন্মোচন করা হয়। মূর্তি নির্মাণে প্রধানত তামা ও পিতলের ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বিষ্ণুর মুকুটটি স্বর্ণনির্মিত। এছাড়া ২১,০০০ স্টীলের বার ও ১,৭০,০০০ নাটবোল্ট ব্যবহৃত হয়েছে মূর্তির পাদভূমিতে। মূর্তিটির ওজন ৪০০০ টন। নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। নির্মাণকারী সংস্থার দাবী, ২১তল বিল্ডিং সমান উঁচু এই সৌধটিতে আগামী ১০০ বছরেও কোনো ক্ষতি সাধিত হবে না।
ছবি ঋণঃ বালি হেলিকপ্টার ট্যুর, হারুকা নাকাগাওয়া ফ্যান, চৈতন্য অদ্বৈত এ
