গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|

বিশ্বের প্রতিটা নারীই কমবেশি নির্যাতনের শিকার। যার মূলে রয়েছে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ। এই পরিস্থিতিতেও এমন একটি গ্রাম রয়েছে, যেখানে পুরুষের চিহ্নমাত্র নেই। সম্পূর্ণ মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত হয় সেই গ্রামটি। নাম ‘উমোজা’। আফ্রিকার কেনিয়ায় অবস্থিত এই গ্রামে পুরুষদের প্রবেশাধিকার নেই।

উমোজাতে গ্রাম পরিচালনা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ করেন মহিলারাই। তবে গ্রামটিতে কেন পুরুষ নিষিদ্ধ তার পিছনে রয়েছে একটি বেদনা দায়ক ইতিহাস।

জানা গিয়েছে, ১৯৯০ সালে গ্রামটি গড়ে উঠেছিল। ১৫ জন ধর্ষিত মহিলা নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে ওই জায়গায় একত্রে বসবাস শুরু করে। পরে সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে নির্যাতিত, অত্যাচারিত ও অবহেলিত হওয়া মেয়েরাও ওই গ্রামে এসে বসবাস শুরু করে। ২০১৫ সালে গ্রামটির জনসংখ্যা ছিল ৪৭ জন। বর্তমানে শিশু সহ তা বেড়ে হয়েছে ৪০০।

উমোজার প্রত্যেক নারীই স্বনির্ভর। তাঁরা মূলত ছোট ছোট হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। সেই থেকে যা আয় হয়, তাই দিয়েই কোনরকমে তাদের পেট চলে। উমোজার এই মহিলাদের তৈরি গয়না বিশ্ব বিখ্যাত।

বহু বিদেশি পর্যটক ওই গ্রামে আসেন। তাঁরা অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় গ্রামের মহিলাদের। ওই পর্যটকদের থেকে নেওয়া প্রবেশমূল্য বাবদ সামান্য অর্থ যা পাওয়া যায়, তাই দিয়েই চলে তাদের উন্নয়নমূলক কাজ।  

গ্রাম পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন দু’জন নারী। প্রতিবছরই বদল হয় সেই পরিচালনার ভার। গ্রামে কোনও মহিলার সন্তান জন্মালে, সেই শিশুর থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনা যাবতীয় ভার বহন করে থাকেন মহিলারাই। পুরুষের হাতে নিপীড়িত নারীদের জন্য একটি আদর্শ অনুপ্রেরণা হল উমোজার এই নারীরা।

ছবি সৌজন্যেঃ ইউএনডিপি টুইটার