গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
সৃষ্টি থেকেই পৃথিবী রহস্যময়। এখানে এমন কিছু রহস্য রয়েছে যার ব্যাখ্যা আজও মেলেনি। আজ আমরা আলোচনা করব এমনই একটি গ্রামের সম্বন্ধে যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা। এই গ্রামটিতে গেলে আপনি চমকে যাবেন বটে। কারণ এই গ্রামের বেশীরভাগ মানুষই যমজ!
এই রহস্যময় গ্রামটি কেরলের মাল্লাপুরম জেলায় অবস্থিত। নাম কোডিনহি। সেখানে বসবাস করে প্রায় ২,০০০টি পরিবার। সেই আর আশ্চর্যজনকভাবে সেই পরিবারগুলিতে রয়েছে প্রায় ২২০ জোড়া যমজ। এই বৈশিষ্টের ফলে গ্রামটি ‘টুইন সিটি’ নামেও পরিচিত।
মুসলিম প্রধান এই গ্রামটির সকল অন্তঃসত্বা মহিলাই যমজ সন্তান প্রসব করেন। আরও আশ্চর্যজনক বিষয় হল, এই গ্রামের কোনও মেয়ের অন্য জায়গায় বিয়ে হওয়ার পরেও তাদের যমজ সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু কেন এমন হয় সেই রহস্য এখনও অধরা। গ্রামবাসীদের ধারণা সবটাই ভগবানের আশীর্বাদ।
এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন প্রায় ৭০-৭৫ বছর আগে কোডিনহিতে যমজ শিশু জন্মানো শুরু হয়েছিল। ১৯৪৯ সালে প্রথমবার এখানে যমজ শিশুর জন্ম হয়েছিল। সেই থেকেই আজ পর্যন্ত চলে আসছে সেই ধারা। প্রতিবছরেই সেখানে গড়ে ১৫টি করে যমজ শিশু জন্মগ্রহণ করে। এই যমজ রহস্য ভেদ করতে গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন কোনরকম কৃত্তিম পদ্ধতি অবলম্বন না করেই স্বাভাবিক ভাবেই জন্ম হয় যমজ শিশুদের।
তবে সারা বিশ্বের মধ্যে শুধু এই গ্রামটিতেই এই অদ্ভুত বিষয়টি ঘটে না। নাইজেরিয়ার ইগবো-ওরা এবং ব্রাজিলের ক্যানডিডো গডোই নামক গ্রাম দুটিও যমজদের গ্রাম হিসাবেই পরিচিত৷ তবে গবেষণা করে দেখা গিয়েছে‚ সেখানকার মহিলাদের খাবারের মধ্যে উপস্থিত থাকে একটি বিশেষ রাসায়নিক। যার ফলে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ক্ষেত্রে যমজ শিশুর জন্ম দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। কিন্তু কেরলের কোডিনহিতে গবেষণা করে তেমন কোনও রাসায়নিক সন্ধান পায়নি গবেষকরা।
কোডিনহির যমজ শিশু জন্মের ক্ষেত্রে কি জিনগত কোনও কারণ রয়েছে? না কি সেখানকার ভৌগলিক জলবায়ুই দায়ী? সেই বিষয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানীরা৷
ছবি সৌজন্যেঃহিস্টোরি টিভি ১৮
