গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
গত বছর জানুয়ারি মাসের শেষে প্রকাশিত হয়েছিল সঞ্জয় লীলা বনশালির আপ কামিং ফিল্ম ‘গাঙ্গুবাঈ কাথিইয়াওয়াদি’র প্রথম পোস্টার। সারা পোস্টার জুড়েই দেখা গিয়েছিল আলিয়া ভট্টকে, এক অন্য রূপে। সম্প্রতি আলিয়া নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে আপলোড করলেন ‘গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াদি’র প্রথম টিজার। যা ছবিটির পোস্টারের ন্যায় ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াতে সাড়া ফেলেছে।
প্রতিবারের মতো এবারেও ভিন্ন ধাঁচের একটি চরিত্রে অভনয় করতে দেখা যাবে আলিয়াকে। তবে এই ছবিতে আলিয়া কোনও সাধারণ নারীর চরিত্রে অভিনয় করছেন না। গাঙ্গুবাঈ নামক একটি নারী চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে, যিনি বাস্তবে ‘মাফিয়া কুইন অব মুম্বই’ নামে পরিচিত ছিলেন। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে একজন দৃঢ়চেতা নারীর জীবনীকে সিনেমার পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চলেছেন সঞ্জয় লীলা বনশালি। আপনাদের মাথায় এখন প্রশ্ন আসতেই পারে কে ছিলেন এই গাঙ্গুবাঈ?
গাঙ্গুবাঈ ছিলেন মুম্বইয়ের কামাথিপুরা যৌনপল্লীর একজন পতিতা। যার আসল নাম গঙ্গা হরজীবনদাস কাথিয়াওয়াদি। তবে তিনি কোনও সাধারণ যৌনকর্মী ছিলেন না। একা হাতে চালাতেন সেক্স র্যাকেট, সামলাতেন ব্যাবসা। ৬০-এর দশকে ভারতের সর্বজন পরিচিত এক ক্রিমিনাল ছিলেন এই গাঙ্গুবাঈ। তবে নিজের ইচ্ছায় তিনি এই জীবনকে বেঁছে নিয়েছিলেন, তেমনটা নয়। আর পাঁচটা মেয়ের মতোই গাঙ্গুবাই একটি সাধারণ মেয়ে ছিলেন। ১৯৩৯ সালে গুজরাতের কাথিয়াওয়ারের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের জন্ম হয় তার। বাড়ির একমাত্র মেয়ে ছিলেন তিনি। মাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি আর পড়াশোনা করেননি।
ছোট থেকেই বরাবর হিন্দি ছবি দেখতে পছন্দ করতেন। সেই থেকেই মনে ইচ্ছে জন্মায় হিন্দি ছবিতে অভিনয় করার। অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বইয়ে যান তিনি, তবে ভাগ্যে ছিল অন্য কিছুই। মাত্র ১৬ বছর বয়সে গঙ্গা তার বাবার ফার্মে কর্মরত একজন অ্যাকাউন্টটেন্টের হাত ধরে বাড়ি ছাড়েন। বিয়ে করে তারা মুম্বইতে থাকতে শুরু করেছিলেন। তবে কিছু দিনের মধ্যেই গঙ্গার স্বামী তাকে মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে কামাথিপুরার একটি যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেয়।

বহুবার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার পর, শেষে পতিতার জীবনকে মেনে নেয় গঙ্গা। সময়ের সঙ্গে গঙ্গার পরিচয় বদলে হয় ‘গাঙ্গুবাই’। কিছুদিনের মধ্যেই গঙ্গা সেই কোঠার ‘ঘরওয়ালি’ বা ‘মালকিন’ হয়ে ওঠে। গাঙ্গুবাঈয়ের সেই কোঠা একসময় মাফিয়া করিম লালার আস্তানা হয়ে ওঠে। ‘এস হুসেন জাইদি’র লেখা “মাফিয়া কুইন অব মুম্বই” বই থেকে জানা যায়, মাফিয়া করিম লালাকে রাখি পরিয়ে ভাইয়ের জায়গা দিয়েছিলেন গাঙ্গুবাঈ। সেই থেকেই গাঙ্গুর আধিপত্য সম্পূর্ণ রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কামাথিপুরায়।
ক্ষমতায় এসে গাঙ্গুবাঈ বেশ কিছু পরিবর্তন করেছিলেন। নিজের ইচ্ছায় কোনও মেয়ে কোঠায় না আসতে চাইলে, জোর করে আনতেন না তিনি। এমনকি অন্যদেরও এই কাজ করতে দিতেন না। অনাথ শিশুদের জন্যেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, যৌনকর্মীদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়েছিলেন তিনি। সেই সূত্রে গাঙ্গুবাঈ দেখা করেছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জহর লাল নেহেরুর সঙ্গেও। এর বহুবছর পর তিনি মারা গিয়েছিলেন। তবে আজও তার সাহসিকতার পরিচয় নিয়ে মুম্বইয়ের কামাথিপুরায় গাঙ্গুবাঈয়ের স্ট্যাচু অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।
এই ছিল গাঙ্গুবাঈয়ের কাহিনি। সঞ্জয় লীলা বনশালি তার পরবর্তি প্রোজেক্ট ‘গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াদি’ ছবিতে গাঙ্গুবাঈয়ের এই জীবন কাহিনিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ২০২০ সালেই ছবিটি রিলিজ হওয়ার কথা ছিল, তবে বিশ্বজুড়ে মহামারির তাণ্ডবের ফলে ছবিটি রিলিজ হয়নি। জানা গিয়েছে চলতি বছরের ৩০ জুলাই ‘গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াদি’ মুক্তি পেতে চলেছে। তবে গাঙ্গুবাঈ দর্শকদের মনে কতটা জায়গা করে নেবে তা ছবিটি মুক্তি পেলেই জানা যাবে।
ছবি সৌজন্যঃ আলিয়া ভট্ট ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল, উইকিপিডিয়া
