শুভজিৎ দে|

আগে বাড়িটির নাম ছিল গার্সটিন বিল্ডিংস। হেয়ার স্ট্রিটের কাছে এক এঁদোগলির মধ্যে অবস্থিত। কাউন্সিল হাউস স্ট্রিটে সেন্ট জনস চার্চের অপরদিকে অবস্থিত বাড়িগুলোর যে নাম, এর নাম ও তাই। পুরনো নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, এখানে ১৭০০ থেকে ১৭৬৩ সাল পর্যন্ত কোম্পানির একটি হাসপাতাল ছিল। সেটাই ওদের প্রথম হাসপাতাল, আলেকজান্ডার হ্যামিলটন বলেছিলেন, “এই হাসপাতালে অনেক রোগী চিকিৎসার ঠেলা সামলাতে যেত, কিন্তু সেটা কীরকম  সে অভিজ্ঞতা বলার মতো লোকজন প্রায় দেখাই যেত না।” তখন ওই এঁদো গলিটা দিয়ে স্থানীয় মানুষজন চলা ফেরা করত, এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় তাকে আর এঁদো গলি বলা চলে না। সেই সময় ওই অঞ্চলের সব বাড়িকেই বলা হত গার্সটিন বিল্ডিংস।

ওয়ারেন হেস্টিংসের খুব কাছের বন্ধু ছিলেন মেজর জেনারেল গার্সটিন, তিনি এক সময় বাংলার সার্ভেয়ার জেনারেল পদে উন্নীত হয়েছিলেন, তিনি ছিলেন বাংলার ষষ্ঠ সার্ভেয়ার জেনারেল (১৮০৮-১৮১৩) কলকাতার টাউন হল আর পাটনার বাঁকপুরের গোলার নকশা তাঁর করা, ১৭৯২ সালে ওল্ড কোর্ট হাউস ভাঙার কাজ তিনিই তদারকি করেন। এছাড়াও সেন্ট জনস গির্জার উত্তরদিকের বাড়িগুলির জন্য ওই ভাঙা বাড়ির (ওল্ড কোর্ট হাউস) মালমশলা তিনি ব্যবহার করেন। তার নাম অনুসারেই এই বাড়ি গুলোর নাম হয় গার্সটিন হাউস। ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৮২০ সালে মেজর জেনারেল গার্সটিন মারা যান, বর্তমানে মেজর জেনারেল গার্সটিন সমাধিস্ত আছেন সাউথ পার্ক স্ট্রিট সেমিট্রিতে (South Park Street Cemetery, PLOT – 1501)। পরবর্তীকালে এই এঁদোগলিটা কলকাতা কর্পোরেশন অদিগ্রহণ করে নাম দেয় গার্সটিন প্লেস।

এক সময় গার্সটিন প্লেসের এই বাড়িটি ছিল ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানির সদর দফতর। ১৯২৭ সালের ২৬ আগস্ট প্রথম এখান থেকে বেতার সম্প্রচার শুরু হয়। ১৯৩৬ সালে সরকারি অদিগ্রহণের পর এর নতুন পরিচয় হয় “অল ইন্ডিয়া রেডিও”, তখন ডিরেক্টর ছিলেন সি.ডাব্লু.ওয়ালিফ, এবং ভারতীয় অনুষ্ঠান সচিব পরিচালক নৃপেন্দ্রনাথ মজুমদার।

১ নং গার্সটিন প্লেস বিখ্যাত এই কারণেই যে অল ইন্ডিয়া রেডিওর কলকাতা কেন্দ্রের এটাই ছিল প্রথম অফিস (বাড়ি)। ১৯৬১ নাগাদ ইডেন গার্ডেনের পাশে বর্তমান আকাশবাণী ভবন উঠে যাওয়ার আগে পর্যন্ত এটাই ছিল তার একমাত্র ঠিকানা। ছোট তিনতলার ব্রিটিশ ঐতিহ্যবাহী এক বাড়ি, দেশের বহু গুণিজন এই বাড়িতে যাতায়াত করতেন, তবে বাড়িটিকে অনেকেই ভূতের বাড়ি বলেন, স্থানীয়দের কথা শুনলে মনে হবে দুই ও তিন তলায় অশরীরী কেউ অপেক্ষা করছেন।

তথ্যসূত্রঃ সার্ভে অব ইন্ডিয়া, উইকিপিডিয়া, ফাইন্ড এ গ্রেভ

ছবিঃ হোয়াটস হট, ব্রিটিশ লাইব্রেরী