গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|

পাহাড়, সমুদ্র তো অনেক হয়েছে সঙ্গে অল্পবিস্তর মালভূমি, বনভূমি-ও; আর সমভূমিতে তো নিত্যদিনের বাস। আচ্ছা, কোনোরকম ভূমির ভূমিকায় না থেকে যদি আকাশভ্রমণও সম্ভব হতো সহজেই! ভাবছেন হয়তো, একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে আকাশবিহার সম্ভব নয়টাই বা কোথায়! দিব্যি তো উড়োজাহাজে চেপে আকাশে উড়ছে মানুষ। তবে যাই বলুন, যে মজা খোলা আকাশে তা কি আসে এয়ারবাসে? নৈব নৈব চ। ১৯০৩ সালে আবিষ্কার হয় এরোপ্লেনের। তার বেশ পরে আবির্ভাব ঘটে প্যারাগ্লাইডিং-এর। আর এই প্যারাগ্লাইডিং সার্থক করে মানুষের আকাশে ওড়ার বাসনাকে। নিজস্ব না হলেও, ক্ষনিকের জন্য হলেও ইচ্ছেডানা মেলে মানুষের যার সাহায্যে পাহাড়ের চূড়া ছাড়িয়ে আরো উঁচুতে উড়ে বেড়াতে পারে মানুষও। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এই প্যারাগ্লাইডিং কিন্তু বিশেষ এক আকর্ষণই বটে! আর দেশের মধ্যেই রয়েছে এমন অনেক প্যারাগ্লাইডিং পয়েন্ট যেখান থেকে ভারতের এক এক ধরণের রূপ প্রতক্ষ্য করা যায়।

উত্তরাখণ্ডের কুঞ্জপুরী –

শিবালিক পর্বতমালায় অবস্থিত এটি, এখান থেকে প্যারাগ্লাইডিং করতে করতে দেখা যায় অপরূপ কিছু দৃশ্য। গঙ্গোত্রী, বান্দেরপন্চ, চৌখাম্বা, স্বর্গ রোহিনী পিক এগুলি সহজেই আকাশ থেকে দেখা যায়। বিশেষত সূর্যাস্তের সময় এর সৌন্দর্য্য মোহিত করার মতই। সবুজ পাহাড়ের কোলে যেন সোনালী রং ঢেলে দেয় প্রকৃতি। মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর কুঞ্জপুরীতে প্যারাগ্লাইডিং-এর উপযুক্ত সময়। খরচ ১৪০০-২০০০ টাকা।

উত্তরাখণ্ডের রানিখেত –

রানিখেত স্থানটি সবসময়ই আকর্ষিত করে ভ্রমণপিপাসুদের। সমতল থেকে ১৯০০মিটার উঁচুতে উঠলে এখানে দেখা যায় কুমায়ুন পর্বতের শ্রেণী। সারিবদ্ধভাবে যুগ যুগ ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই পর্বতমালাকে একসাথে দেখতে গেলে বোধহয় প্যারাগ্লাইডিং-এর থেকে বেটার আর কিছু হতে পারে না। ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর যাওয়া যেতে পারে যে কোনো সময়ই। ভ্রমণ বাবদ খরচ হবে ৩০০০টাকা।

মহারাষ্ট্রের পঞ্চগনি –

মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার অন্তর্গত পঞ্চগনি বিখ্যাত এক হিল স্টেশন। নিকটবর্তী মহাবালেশ্বর মন্দিরে প্রতি বছর ভিড় জমায় হাজার পুণ্যার্থী। হরাইজন পয়েন্ট থেকে শুরু করে প্যারাগ্লাইডিং শুরু করে উড়ে যাওয়া যায় আরো উঁচুতে যেখান থেকে শহরটিকে দেখা যাবে বার্ডস আই ভিউতে। পুনে স্টেশনে নেমে সেখান থেকে সহজেই সড়কপথে পৌঁছে যাওয়া যায় শহরটিতে। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর হল এই স্থানে প্যারাগ্লাইডিং-এর উপযুক্ত সময়। খরচ মোটামুটি ২০০টাকা।

তামিলনাড়ুর এলাগিরি –

তামিলনাড়ুর ভেলোর ডিস্ট্রিক্টের এলাগিরি প্যারাগ্লাইডারদের খুব পছন্দের একটি জায়গা। শহর থেকে ট্যাক্সি নিয়েই পৌঁছে যাওয়ায় এই পয়েন্টে।  ২২০০মিটার উচ্চতায় পৌঁছে দেখা যাবে প্রকৃতির অন্যরকম সৌন্দর্যকে। সবুজ চাদরে মোড়া উপত্যকার উপর দিয়ে উড়ে যেতে যেতে মনে হবে পৌঁছে গেছেন অন্য কোনো জগতে। এই স্থানে প্যারাগ্লাইডিং-এর উপযুক্ত সময় হল জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর। খরচ পড়বে ১২০০-১৫০০টাকা।

নন্দী হিলস্ –

ব্যাঙ্গালোরের মত ব্যস্ত শহরে কাজের চাপে ক্লান্ত মানুষ মাঝে মাঝেই পাড়ি দেন এই টুরিস্ট স্পটে। মাত্র ৬৫কিমি দূরে অবস্থিত এই নন্দী হিলস্ থেকে প্যারাগ্লাইডিং অনেকেরই টু ডু লিস্টে থাকে। এখন থেকে সৌন্দর্য্য এতটাই মনোরম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪৭৮মিটার উপরে উড়ে স্মুদ ল্যান্ডিং করে পৌঁছনো যায় ব্যাঙ্গালোরের হেব্বাল লেকে। মেঘের সাথে ওড়ার যে আনন্দ তার কিছুটা আস্বাদ পাওয়া যায় এখানে। ২৭০০টাকা খরচ তখন সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য নেহাতই কম ঠাহর হবে। জুন, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর অর্থাৎ মোটামুটি বর্ষাকাল ছাড়া যে কোনো সময়েই তা উপভোগ করা যেতেই পারে।

মানালি হিমাচল প্রদেশ –

ট্রেকিং ও প্যারাগ্লাইডিং-এর জন্য কত পর্যটক এক বছরে ভিড় জমান মানালিতে তার আন্দাজ বোধহয় সকলেরই রয়েছে। মানালি পর্যটকদের জন্য একটা মাস্ট ভিসিট প্লেস বটে! মানালির সোলাং ভ্যালি ও মারহি এই দুটি স্পট থেকে প্যারাগ্লাইডিং চলে প্রায় সারা বছরই। বর্ষাকালে সম্ভব নয় বলে শুধু বন্ধ থাকে সেই সময়টুকু। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল, মে, জুন, নভেম্বর, ডিসেম্বর হল উপযুক্ত সময়। ৬০০ তাকে শর্ট ডিউরেশন ফ্লাইট থেকে ১৫০০-২০০০টাকায় বেশি সময়ের উড়ান ব্যবস্থা আছে সবরকম। বরফাবৃত পাহাড় ও লম্বা লম্বা গাছের সারির উপর দিয়ে ওড়ার এক সুযোগ করে দেবে এই প্যারাগ্লাইডিং।

নৈনিতাল উত্তরাখন্ড –

নৈনিতালের ক্ষেত্রে ভিউ হবে এক্কেবারে অন্যরকম। এই অঞ্চল বিখ্যাত এখানকার একাধিক তাল অর্থাৎ লেকের জন্য। নাকুচিয়াতাল ও ভীমতাল এই দুই পয়েন্ট থেকে উড়ান দিয়ে ২০০০মিটার উঁচুতে পৌঁছে যাওয়া যাবে। দেখা যাবে সমস্ত বিখ্যাত তালকে উপর থেকে। বেশ বড় নৌকাগুলিকে লাগবে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র। মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর প্যারাগ্লাইডিং করা যেতে পারে। খরচ পড়বে ১৫০০-১৬০০টাকা।

কামসেত মহারাষ্ট্র –

পুনে, মুম্বাই চত্বরে প্যারাগ্লাইডিং করতে চাইলে তার বেস্ট অপশন হল কামসেত। ভূগোলে পড়া দাক্ষিণাত্যের মালভূমির সম্পূর্ণ চেহারা দেখা যাবে এই প্যারাগ্লাইডিং পয়েন্ট থেকে। বিস্তীর্ণ মালভূমি ছাড়াও সাথে দেখা যাবে ছোট ছোট বসতবাড়িগুলি যা ক্রমশ ছোট লাগতে থাকবে উচ্চতাবৃদ্ধির সাথে সাথে।  কামসেতের ক্ষেত্রেও বর্ষাকাল ছাড়া বছরের যে কোনো সময়ে উপভোগ করা যাবে এই স্পোর্ট। খরচ ২৫০০-৩০০০টাকা।

বীর বিলিং হিমাচল প্রদেশ –

হিমাচলকে বলা হয় ‘দ্য হোম ফর প্যারাগ্লাইডিং’। আর এই হিমাচলের বীর গ্রামের নাম বিশ্ববিখ্যাত কারণ এই বীর বিলিং পয়েন্টেই প্রথম প্যারাগ্লাইডিং ওয়ার্ল্ড কাপ আয়োজিত হয়েছিল। বীর বিলিং ছাড়াও আরো ১১টি স্পট রয়েছে হিমাচলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪০০মিটার উঁচুতে ওড়ে এখানে প্যারাগ্লাইডাররা। মার্চ থেকে জুন হল বেস্ট টাইম আর খরচ ২০০০-২৫০০টাকা।

এছাড়াও গুজরাটের সাতপুর, উত্তরাখণ্ডের মুসৌরি, গ্যাংটক, জয়পুর, গাড়োয়াল, পাভাগড় হিল দেশের এই প্যারাগ্লাইডিং পয়েন্টগুলিও বেশ খ্যাতি পেয়েছে।