গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|

এই প্রাণীটি আসলে একটি বিড়ালের প্রজাতি। তবে বিড়ালের প্রজাতি হলেও বিড়ালের মতো ভাবলে ভুল করবেন। এই প্রাণী আকারে বিড়ালের থেকে অনেক বড়। দেখতে অনেকটা বাঘের মতো। মুখের সামনে হয়েছে ধারালো দুটো লম্বা দাঁত বা ক্যানাইন। শুনে নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পারছেন ওই প্রাণীটা কতটা হিংস্র। বাঘ-সিংহর থেকেও বেশি হিংস্র এবং শক্তিশালী ছিল এই প্রাণী।

এই ধরণের প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত ছিল। কারণ সবথেকে বড় এবং হিংস্র বিড়ালের প্রজাতি হিসাবে সেবার টুথ টাইগারের অস্তিত্বই জানা গিয়েছিল। কিন্তু এবার সেই ধারণা বদলে গেল। সন্ধান মিলল বিড়াল প্রজাতির অন্য এক ভয়ানক প্রাণীর। সম্প্রতি দেড় ফুট দৈর্ঘ্যের একটি খুলি উদ্ধার করেছেন বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘকায় এই প্রাণীর নাম স্মিলডন পপুলেটর। গবেষণায় জানা গিয়েছে প্রায় ১১,৭০০ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিপন্ন হয়েছে এই প্রাণীটি। এদের ওজন ছিল প্রায় ৯৬০ পাউন্ড। প্লিস্টোসিন যুগে দক্ষিণ আমেরিকায় বাসভূমি ছিল এই প্রাণীর।  

জার্নাল অ্যালকেরিঙ্গ থেক জানা গিয়েছে, ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ উরুগুয়ে থেকে স্মিলডনের একটি খুলি উদ্ধার করেছিলেন ‘রিকার্দো প্রাদেরি’ নামক এক গবেষক। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই খুলিটি ছিল প্রায় ১৬ ইঞ্চি লম্বা। শুধু তাই নয়, খুলিটির মধ্যেই লেগে ছিল ১১ ইঞ্চির দুটি দাঁত (ক্যানাইন)। ওই তীক্ষ্ণ ক্যানাইনের সাহায্যেই স্মিলডন যেকোনও বৃহদাকার প্রাণীর শিকার করত। ওই খুলিটি পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা মন্তব্য করেছেন ওই প্রজাতির বিড়ালের মধ্যে স্মিলডন ছিল সব থেকে বেশি হিংস্র।

জানা গিয়েছেস্মিলডন পপুলেটররা নিজেদের থেকেও বড় আকারের প্রাণীদের শিকার করত। এরা শিকার করার সময় প্রথমেই শিকারের মাথার কামড়ে ধরত। ফলে তীক্ষ্ণ ক্যানাইন দুটি সহজেই শিকারের খুলি ফুঁড়ে ধুকে যেত। নিমেষেই প্রাণ হারাত সেই প্রাণী। ভয়ংকর সেই প্রাণীর বিশালাকার খুলিটি বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে উরুগুয়ের মন্টেভিডিয়োর ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি-তে।

ছবি সৌজন্যেঃ (প্রতীকী ছবি) উইকিপিডিয়া, কমন উইকিমিডিয়া (জুলজিক্যাল মিউজিয়াম ইন কোপেনহেগেন)