গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|

বর্তমানে কচ্ছপের বহু প্রজাতিই বিপন্ন হওয়ার পথে। তবে জানা আছে কি এই ক্ষুদ্র প্রাণীটাই এক সময় দাপিয়ে বেড়াত চারিদিকে? খেয়ে ফেলত আস্ত কুমির! এমনটাই জানা যাচ্ছে সাম্প্রতিক একটি গবেষণা থেকে। বহুদিন আগেই কলম্বিয়া এবং ভেনেজুয়েলা থেকে গবেষকরা প্রাগৈতিহাসিক যুগের কচ্ছপের জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছিলেন। আর সেই জীবাশ্ম পরীক্ষা করে গবেষকরা জানতে পারেন, বর্তমানে কলম্বিয়ার যেখানে তাতাকোয়া মরুভূমি অবস্থিত, অতীতে সেখানেই রাজত্ব করত একদল দৈত্যাকৃতির এই প্রাণী। প্রায় ১ কোটি বছর আগেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল সেই প্রাণীগুলি।

১৯৯০ সালে তাতাকোয়া মরুভূমিতে প্রথমবার প্রাগৈতিহাসিক যুগের দৈত্যাকার কচ্ছপের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছিলেন গবেষকরা। ১৯৭৬ সালে জীবাশ্মবিদ রজার উড সেই দৈত্যাকার কচ্ছপের সম্বন্ধে আলোচনা করেছিলেন। তবে জীবাশ্মগুলির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তা নিয়ে পরীক্ষাকরা সম্ভব ছিল না। তাই গবেষকরা পুনরায় তাতাকয়ায় গিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছিলেন। আর সেখান থেকেই তারা উদ্ধার করেন প্রায় ১০ দশ ফুট লম্বা কচ্ছপের খোল! সেই খোল নিয়েই শুরু হয় গবেষণা। সম্প্রতি ১২ ফেব্রুয়ারি সেয়েন্স অ্যাডভানসেস জার্নালে সেই গবেষণার নানা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। কলম্বিয়ার ডেল রোজারিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, ভূতাত্ত্ববিদ এবং জীবাশ্মবিদ এডউইন ক্যাডেনা ওই কচ্ছপগুলির প্রকাণ্ড চেহারা ও ভৌগলিক বাসভূমির উপর বিচার করে নাম দিয়েছেন স্টুপেন্ডেমিস।

গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে প্রাগোইতিহাসিক যুগের ওই দৈত্যাকার কচ্ছপগুলির ওজন ছিল প্রায় ২,৫০০ পাউন্ড! তাদের তাদের খাবারের তালিকায় ছিল আস্ত কুমির, বড় সাপ, মাছ, ছোট প্রাণী ও বিভিন্ন গাছপালা সমূহ। এই প্রকাণ্ড কচ্ছপগুলির বাসস্থান ছিল জলাশয় ও নদীর তলদেশে। গবেষণায় আরও উঠে আসে, এই দৈত্যাকৃতির কচ্ছপগুলির মধ্যে পুরুষ কচ্ছপদের খোলের উপরে থাকত তীক্ষ্ণ খড়গ। কিন্তু মেয়ে কচ্ছপদের সেই খড়গ ছিল না বলেই জানা গিয়েছে।

এই কচ্ছপগুলির কীভাবে বিলুপ্ত হল তার সঠিক কারণ এখনও জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে অনুমান করা হচ্চে অ্যান্ডিস পর্বত উত্থাপিত হয়ে অ্যামাজন, অরিনোকো এবং ম্যাগডালেনা নদী পৃথক হয়ে যাওয়ার ফলে এই প্রাণীগুলির আবাসস্থল ব্যাহত হয়েছিল।

এই দৈত্য কচ্ছপ সম্পর্কে আরও পরীক্ষা করে গবেষকরা কচ্ছপের বিবর্তন নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। তাদের কথায়  স্টুপেন্ডেমিসের নিকটতম জীবিত প্রজাতি হল অ্যামাজন নদীর ‘বিগ হেডেড কচ্ছপ’। যা ওই প্রজাতির কচ্ছপের থেকে একশো গুণ ছোট হলেও তাদের খাবারের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।

শেষে বলা এখন যেখানে মরুভূমি ১ কোটি বছর আগে সেখানেই ছিল জলাশয়। আর সেখানেই দৈত্যাকার এই প্রাণীগুলি বেঁচে থাকার জন্য লাড়াই করত। বর্তমানে তারা বিলুপ্ত হলেও পৃথিবী এখনও আগলে রেখেছে তাদের চিহ্নগুলি।

ছবি সৌজন্যেঃ উইকিমিডিয়া কমনস ও জর্জ কেরিল্লো