গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
অস্তিত্ব যখন সংকটের মুখে পড়ে অস্তিত্বরক্ষার লড়াই হয়ে যায় কঠিনতর। কিন্তু সেই গুরুদায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে কেনিয়ার ওল পেজেটা কনসারভেন্সি শেষ দুই গন্ডার। ক্রমশ অবলুপ্তির পথে এই প্রজাতি, তাই এই দুই মেয়ে গন্ডার এখন বিজ্ঞানীদের ভরসাস্থল। কিন্তু এক্ষেত্রে দুটি গন্ডারই মেয়ে হওয়ায় দায়িত্ব বর্তায় বিজ্ঞানীদের উপর। তাদের নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে গবেষণা।
সান দিয়েগো চিড়িয়াখানা ইনস্টিটিউট ফর কনজার্ভেশন রিসার্চ-এ, তরল নাইট্রোজেন, মাইক্রোস্কোপস এবং আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন দিয়ে বিজ্ঞানীদের একটি দল বিশ্বজুড়ে সংরক্ষণের জগতে এক নজিরবিহীন উপমা তৈরি করতে চেষ্টা চালাচ্ছে দিনরাত। তারা গন্ডারের হিমায়িত ত্বকের কোষগুলিকে কাজে লাগিয়ে প্রজাতিকে বিলুপ্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে চাইছে, তৈরি করতে চাইছে শিশু গন্ডার। হ্যাঁ দেখে মনে হচ্ছে এ তো অবাস্তব! কাহিনী! কিন্তু এগুলিকে নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা।
এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষেরা বিশ্বাস করে যে গন্ডারের শিং তাদের বিভিন্ন রোগ নিরাময় করতে পারে , ফলতই শিকার বাড়তে থাকে, গন্ডারকে লক্ষ্য করে। যদিও এই জোড়া থেকে ইতালীয় ল্যাবগুলিতে ভ্রূণ উত্পাদিত হয়েছে, তবে এই জাতীয় ভ্রূণের ভবিষ্যতের যে কোনও বংশধরেরা এই দুই মেয়ে গন্ডারের জিন বহন করবে।
এই পদ্ধতির রয়েছে বেশ কয়েকটি ধাপ। গন্ডারের সংরক্ষিত হিমশীতল কোষকে নতুন জীবনে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব অর্পিত চার বিজ্ঞানীর মধ্যে মারিসা করোডি অন্যতম। তাদের হিমায়িত ত্বকের কোষগুলি প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেলগুলিতে পুনরায় রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন বিজ্ঞানীমহল। করোডি ব্যাখ্যা করেছেন যে “স্টেম সেলগুলি দেহের যে কোনও কোষের ধরণ হয়ে উঠতে পারে যদি তাদের সঠিক সংকেত দেওয়া হয়।”
তবে শেষ ধাপে সমস্যা রয়েছে অন্য। যেহেতু দুই গন্ডারের একটিও গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত নয় তাই প্রয়োজন অন্য গন্ডারের। সেই কাজের দায়িত্ব দেওয়া মহিলা হলেন বারবারা ডুরান্ট। প্রজনন বিজ্ঞানের পরিচালক হিসাবে, নিকিতা কাহন রাইনো রেসকিউ সেন্টারে প্রজনন প্রক্রিয়া অধ্যয়ন করার জন্য চার বছর কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি ছয়টি ফিমেল সাদার্ন হোয়াইট রাইনো নিয়ে করেন গবেষণা। যদিও এদের প্রজাতি আলাদা তবে আগের প্রজাতির সবথেকে কাছাকাছি বলতে এই প্রজাতির অস্তিত্বই রয়েছে পৃথিবীতে, জানান বিজ্ঞানী নিজেই।
অবশেষে মেলে সাফল্য, ২০১৯ সালে কেন্দ্রের দুটি গন্ডার সাদা বাচ্চার জন্ম দেয়। দুজনের ক্ষেত্রেই করা হয় কৃত্রিম গর্ভাধান। তবে এই সাফল্য ডুরান্ট এবং গন্ডার প্রকল্পে কাজ করা দলের প্রতিটি মানুষকে আশার আলো দেখায়। আর এভাবেই অবলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইতে একধাপ এগিয়ে যায় এই নর্থদার্ন হোয়াইট রাইনো।

কমেন্টস
we should protect and preserve our fauna and flora