গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
অতুল্য ভারতে এমন অনেক কিছুই আছে যা হয়তো সারা পৃথিবীতে কোথাও নেই। এই অমূল্য জিনিসগুলি হল ভারতের সম্পদ। এরকমই এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে চলে আমাদের অজান্তেই, সমুদ্র থেকে জেগে ওঠেন ভগবান শিব। এই ঘটনা চমকে দিতে পারে যে কোনো মানুষকে। যেখানে প্রতিদিন নিয়ম করে দুবার মহাদেবকে জলাভিষেক করে সমুদ্র। দেড়শো বছর ধরে এই একই নিয়ম চলে আসছে, হেরফের হয়নি একদিনও। এই আশ্চর্য ও অলৌকিক কাহিনি বোধহয় অনেকেরই অজানা।
গুজরাটের ভদোদরা শহর থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে, কভি কাম্বোই নামক স্থানে আরব সাগরের তীরে অবস্থিত একটি শিবের মন্দির।স্থানীয়ভাবে দেড়শো বছরের পুরোনো এই মন্দিরটি স্তম্ভেশ্বর মহাদেব মন্দির নামেই পরিচিত। লোকমুখে এই মন্দিরের ইতিহাস যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তার ফলে ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছেও এই মন্দিরের গুরুত্ব বাড়ছে। লোকমুখে কথিত আছে যে এই মন্দিরে শিবের কাছে যা চাওয়া হয় তা নাকি পূরণ হয়ই। স্বাভাবিকভাবেই শরণার্থী ও ভক্তদের ভিড় ক্রমশই বাড়তে থাকে।
মন্দিরটি সমুদ্রের তীরে অবস্থিত, জলরাশি এসে আছড়ে পড়ে মন্দিরের গায়ে। এই চিত্রটা স্বাভাবিক, তবে এখানে প্রভু সবসময় দর্শন দেন না তাঁর ভক্তদের। পুণ্যার্থীরা ইচ্ছামতো এই মন্দিরে যেতে পারেন না। দর্শন পেতে গেলে অপেক্ষা করতে হয় বা ভাঁটার সময় আসতে হয়। কারণ এই সময় ছাড়া অন্য সময় এই মন্দির থাকে সমুদ্রের জলের নীচে। জোয়ারের সময় মন্দিরটি জলের তলায় চলে যায়, শুধুমাত্র মন্দিরের উপরের অংশ এবং মন্দিরের ধ্বজাটি দেখা যায়। দুপুর হলে আস্তে আস্তে নামতে থাকে সমুদ্রের জল এবং নাটকীয় দৃশ্যের মত ক্রমশ প্রকাশিত হতে থাকে শিবের মন্দির ও শিবলিঙ্গ। তখন দর্শনার্থীরা একে একে আসতে শুরু করেন এবং মহেশ্বরকে পূজা নিবেদন করেন। এই মন্দিরের লোকমুখে শোনা অনেক ইতিহাস রয়েছে। কেউ বলেন যে বাবা ভোলানাথ নাকি কোনো ভক্তকেই এখান থেকে খালি হাতে ফেরান না। আরো বলা হয় যে সবাই নাকি এখানে এলেই প্রভুর দেখা পায় এমনটাও হয় না, বাবার দেখা পাওয়া এক সৌভাগ্যের ব্যাপার। এই তীর্থস্থানের উল্লেখ রয়েছে শিবপুরাণের রুদ্রসংহিতার দ্বিতীয় ভাগে।
তাছাড়া এই মন্দিরের সম্পর্কে প্রচলিত রয়েছে একটি পৌরাণিক কাহিনীও। বলা হয় যে তাড়কাসুর কঠোর তপস্যা করে শিবকে তুষ্ট করেন এবং তিনি খুশী হয়ে তাঁকে তাঁর ইচ্ছামতো অমরত্বের বর দেন। একমাত্র মহাদেবের পুত্র যার বয়স ছয় দিন সেই বধ করতে পারবে ওই অসুরকে। এই বর পেয়ে অসুর সর্বত্র ভয় ছড়াতে শুরু করে, সমস্ত দেবদেবী ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। এর পর, দেবদেবীরা মহাদেবের শরণাপন্ন হলে তাঁর তেজ থেকে জন্ম নেন কার্তিক, ছয় দিন বয়সেই তাড়কাসুরকে হত্যা করেন এবং সকল দেবদেবীকে ভয়মুক্ত করেন। পরে যখন তিনি জানতে পারেন তাড়কাসুর তাঁর পিতা পালনকর্তা শিবের ভক্ত ছিলেন, ওই জায়গাতেই শিবের মন্দির নির্মাণ করেন তিনি। যা বর্তমানে স্তম্ভেশ্বর মহাদেব মন্দির নাম পরিচিত। আর এই মন্দিরের বিশেষত্ব এটাই যে এখানে শিবলিঙ্গের জলাভিষেক নিজে থেকেই হয় সমুদ্রের জলে, দিনে দুবার। মনে হয় যেন এখানে কোনো মন্দিরের অস্তিত্বই নেই। কিন্তু হঠাৎই যাদুর মতোই দেখা যায় শিবলিঙ্গ। কিন্তু আদতে এটি প্রাকৃতিক ঘটনার সাথেই যুক্ত, যার সাথে যুক্ত হয়েছে পুরাণ ও বিশ্বাস।
ছবিঃ পত্রিকা এবং কানেক্ট গুজরাট



