গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক।

নিজের বাড়ি, তা সে যেমনই হোক না তাই নিয়েই ভাল থাকতে চান সকলে। কিন্তু তাই বলে বালির দুর্গ! না বিষয়টি একেবারেই তাসের ঘরের মতো নয়। এক ব্রাজিলিয়ান গত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে রিও-র সমুদ্র সৈকতে একটি সুবিশাল বালির দুর্গে বসবাস করছেন তাও আবার সম্পূর্ণ একা। বিষয়টি অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। আদতে বার্মিজ ৪৪ বছর বয়সী মার্সিও মিজেল মাটোলিয়াস গত ২২ বছর ধরে বাস করছেন রিও-র ব্যারা দ্য টিজুকা সমুদ্র সৈকতে বালির তৈরি দুর্গে বসবাস করছেন। সকলে তাঁকে ‘বালির রাজা’ বলেই চেনে। সম্বোধনও করেন ‘রাজা’ বলেই।

নামেই কেবল রাজা নয়। আদতে একজন রাজার হালেই দিন কাটে তাঁর। বসার জন্য রয়েছে একটি সিংহাসন এবং সঙ্গে রয়েছে একটি রাজদণ্ডও। এক পর্যটক তাঁকে একটা মুকুটও দিয়েছিল। সারাদিন সমুদ্রতটে আসা পর্যটকদের আনন্দ দিয়ে এবং সমুদ্রের পাড়ে গল্ফ খেলে দিন কাটে তার। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে মার্সিও জানিয়েছেন, তাঁর বেড়ে ওঠা গুয়ানাবারা উপসাগরে এবং দিনের অধিকাংশ সময়ে সমুদ্র সৈকতেই দিন কাটত তাঁর। তবে বালির দূর্গে বসবার করার পর থেকে পর্যটকদের কাছে এরপ্রকার আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছেন তিনি। তাঁর কথায়, সমুদ্র তীরবর্তী স্থানটি উচ্চবিত্তদের জন্য। এখানে বাড়ি করে থাকার জন্য মানুষ প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন, কিন্তু তাঁর জমি কিনে বাড়ি বানানোর মতো সামর্থ নেই। তাই বালির দূর্গে থাকার কারণে আলাদা কোনও খরচও নেই। স্প্যানিশ স্থপতি অ্যান্টনি গৌডিরল একটি বই পড়ে তাঁর কাজ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি তাঁর দুর্গটি তৈরি করেছেন। তবে বালির দুর্গটিকে খাঁড়া রাখার জন্য তাঁকে অনেক পরিশ্রমও করতে হয়।

বালির দূর্গের ভেতরের জায়গাটি মাত্র ৩২ বর্গ ফুট বিস্তৃত। তবে ছোট হলেও মানুষের বসবাসের পক্ষে দুর্গটি নিরাপদ বটে। আর রাজার কাছে কিন্তু এইটুকু জায়গাই প্রয়োজনের চেয়ে অনেকটাই বেশি। অন্তত এমনটাই মত রাজামশাইয়ের। তবে তাঁর বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গাটি হল তাঁর শোওয়ার ঘরটি। কারণ তাঁর শোওয়ার ঘর জুড়ে রয়েছে বিপুল বইয়ের সম্ভার। দেশি বিদেশি নানা লেখকের লেখা বই রয়েছে তাঁর কাছে। নিজে পড়ার পর বইগুলি বিক্রি করে দেন মার্সিও। আর এই বই বিক্রির টাকা দিয়েই নিজের অন্ন সংস্থান করেন কিং মার্সিও। বইয়ের কোনও নির্দিষ্ট দাম নেই। বই হাতে তুলে নিয়ে পাঠক তাঁর সাধ্যমতো যান করেন তাই নেন রাজা। তবে অদ্ভুত ব্যপার হল অনেকে টাকা দিলেও, অনেকে আবার এমনিই বই নিয়ে চলে যান। তাতে অবশ্য কিছুই বলেন না কিং মার্সিও। মনে মনে এটা ভাবেন, যিনি নিলেন তার হয়তো দাম দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ ছিল না!

শোওয়ার ঘরের বাইরেই একটি স্টোভ জ্বেলে তাতে রান্না করেন রাজা। মাঝে মাঝে ঝড়-জলে ভেঙে যায় ‘রাজবাড়ি’, তখন আবার নিজেই সেই ক্ষত সারিয়ে গড়ে তোলেন দুর্গ। কিন্তু আদতে কি সুখি কিং মার্সিও?  তাঁর কথায়, তিনি সর্বদা সুখে থাকার চেষ্টা করেন, এমনই চরম দুঃখের মুহূর্তেও আনন্দে থাকার চেষ্টা করেন তিনি। গরমের দিনে বালি তীব্র তাপমাত্র শোষণ করে নেয়, ফলে সেই সময় বালির দুর্গে ঘুমোনো কঠিন হয়ে পড়ে, সেইসময় কোনও এক বন্ধুর বাড়ি রাত্রিযাপন করেন, বা কখনও কখনও সমুদ্রের পাশেই শুয়ে থাকাও বেশ পছন্দ করেন তিনি। পিছুটানহীন একাকী জীবনে এক সমুদ্র জ্ঞান গোগ্রাসে দিলে নিজের মতো করেই ভাল আছেন কিং মার্সিও।  

ছবি সৌজন্যেঃ দ্য সান