গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
প্রাণী হত্যার খবর আমারা মাঝের মধ্যেই শুনে থাকি। প্রত্যেকটি প্রাণী হত্যার পিছনেই লুকিয়ে থাকে কিছু নিষ্ঠুর মানুষের ব্যাবসায়িক স্বার্থ। এই সকল মানুষের আর্থিক লালসার শিকার হয়ে প্রতিবছরই প্রাণ হারায় কোটি কোটি নিরীহ প্রাণী। বিশেষত লোম ও চামড়ার জন্যই প্রাণী হত্যা করা হয়। তবে লোমের থেকেও চামড়ার জন্যই বেশি প্রাণী হত্যা হয়ে থাকে। কারণ এই সকল বন্য প্রাণীর চামড়া আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর দামে বিক্রি হয়। সেই থেকেই তৈরী হয় চামড়ার নানা দ্রব্য।
প্রাণী হত্যা করে চামড়ার তৈরী দ্রব্য হয় বলে অনেকেই তা ব্যবহার করেন না। আবার কৃত্রিম চামড়া তৈরীর ক্ষেত্রেও প্রচুর পরিমাণে জল নষ্ট হয়। এই সমস্ত সমস্যার সমাধান দিল দুই মেক্সিকান যুবক। নাম আদ্রিয়ান লোপেজ ভেলার্ডে এবং মার্তে ক্যাজারাজ।
আদ্রিয়ান এবং মার্তে দুই বন্ধু মিলে একটি লেদারের ব্যাবসা শুরু করে। তারা সেই কোম্পানির নাম রাখে আদ্রিয়ানো ডি মার্টি। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হল চামড়ার দ্রব্য তৈরী করলেও তারা কোনও পশুর চামড়া ব্যবহার করে না। পশুর চামড়ার বিকল্প হিসাবে তারা বেছে নিয়েছে এক বিশেষ প্রজাতির ক্যাকটাস। যা ডেজার্টো নামে পরিচিত।
ডেজার্টোর পুরু ছালকেই তারা চামড়ার বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করছেন। এক্ষেত্রে তারা একটি বিশেষ ভেষজ পদ্ধতি অবলম্বন করে। এছাড়া রঙের জন্য ব্যবহার করেন ন্যাচারাল ডাই। এই পদ্ধিতিটি সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় এক্ষেত্রে কোনওরকম পরিবেশ দূষণ হয় না এবং জলের অপচয়ও অনেকটাই কম হয়।
এই অভিনব চামড়ার উৎপাদন দিয়ে তারা তৈরী করেছে জুতো, জ্যাকেট, বিভিন্ন জামা, গাড়ির সিটের কভার, ব্যাগ ইত্যাদি।
যদি ক্যাকটাসের থেকে চামড়া তৈরী করে তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে প্রচুর অবলা প্রাণীই মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাবে। তাহলে আর দেড়ি না করে পশুর চামড়ার পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব এই কৃত্রিম চামড়াকে বেছে নিন।
