গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
বাঙালির বর্ষাকাল মানেই পাতে ইলিশ চাই, এই স্বাদের জুরি নেই। এই সুস্বাদু রূপোলি মাছের চাহিদা বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গেই সব থেকে বেশি। ইলিশ ভাপা, সর্ষে ইলিশ, ভাজা, পাতুরি আরও কত কি! ভাবলেই জিভে জল আসে। তবে জানেন কি এই সুস্বাদু মাছের উৎপাদন বাংলাদেশ এবং ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়, মায়ানমার এবং পাকিস্তান সহ আরও কয়েকটি দেশে ইলিশ উৎপন্ন করা হয়। তবে না বললেই নয়, আমরা যে কোনো জিনিস কেনার আগেই তা ভালোভাবে দেখে, বিচার করে তবেই কিনি। আর খাদ্যদ্রব্য কেনার সময় আমারা খাঁটি জিনিসটাই নিতে চাই। কিন্তু মাছ কেনার সময় আমরা অনেক সময় অজান্তেই বাসি, স্বাদহীন বা নিকৃষ্ট মানের মাছ কিনে ফেলি। যার ফলস্বরূপ আমরা খারাপ অভিজ্ঞতার শিকার হই। এই ইলিশের মরসুমে টাটকা-বাসি, সুস্বাদু, ডিমওয়ালা, নদী না সাগরের বা কোনটা পদ্মার ইলিশ কীভাবে বুঝবেন জেনে নিন।
নদী এবং সাগরের ইলিশের পার্থক্য
আমরা সকলেই জানি ইলিশ সাধারণত সাগরের মাছ। শুধুমাত্র ডিম পাড়ার সময়ই তারা নদীতে আসে। তবে সাগরের ইলিশের তুলনায় নদীর ইলিশের স্বাদ বহুগুণে বেশি। বাজারে মাছ কেনার সময় বুঝবেন কীভাবে কোনটি নদীর, আর কোনটি সাগরের?
- নদীর ইলিশ সাধারণত একটু বেঁটেখাটো এবং পটল আকৃতির হয়। লেজের একটু ওপরের অংশ থেকেই মাছের গড়ন গোল হতে শুরে করে। অন্যদিকে সাগরের ইলিশ অপেক্ষাকৃত সরু ও লম্বাটে আকৃতির হয়।
- আরও একটি বিষয় হল নদীর ইলিশ অপেক্ষাকৃত বেশি উজ্বল-রূপোলি বর্ণের হয়। সাগরের ইলিশ তুলনামূলকভাবে কম উজ্জ্বল।
এবার আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে নদীর ইলিশের এমন গড়ন হয় কেন? বাংলাদেশের মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের ইলিশ বিষয়ক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ রহমান এ বিষয়ে বলেছেন, সমুদ্র থেকে নদীতে ডিম পাড়তে এসে ইলিশ, নদীতে জন্মানো প্ল্যাংটন (অতিক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ এবং প্রাণী) খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে, যা সমুদ্রের নোনা জলের প্ল্যাংটন থেকে আলাদা হয়। ফলে নদীতে ডিম দিতে আসা ইলিশের শরীরে একপ্রকার চর্বি জমে, যা থেকে তাদের আকৃতি ও রঙ সাগরের ইলিশদের থেকে ভিন্ন করে।
পদ্মার ইলিশ চেনার উপায়
- পদ্মার ইলিশের রঙ অন্যান্য জায়গার তুলনায় অনেক বেশি চকচকে ও উজ্বল রূপোলি প্রকৃতির হয়।
- এছাড়া পদ্মার ইলিশ মাছগুলি আকারে বড় ও চর্বিযুক্ত হয়।
ডিমওয়ালা ইলিশ কীভাবে চিনবেন
অনেকক্ষেত্রেই আমরা ডিমওয়ালা ইলিশ চিনতে ভুল করি। এখানে মনে রাখা প্রয়োজন ইলিশ প্রধানত আগস্ট মাসের শেষ থেকেই ডিম পাড়তে শুরু করে, তা চলে অক্টোবর পর্যন্ত।
- ডিমওয়ালা মাছের পেট মোটা এবং টাইট হবে, সাধারণ ইলিশের পেট তুলনামূলক আলগা হয়।
- ডিমওয়ালা ইলিশের পেটে চাপ দিলেই মাছের পায়ু পথ থেকে ডিম বেরিয়ে আসে।
কোন ইলিশ বেশি সুস্বাদু হয়
- বিশেষজ্ঞদের দাবি নদীতে ডিম পাড়তে আসা ইলিশের শরীরে থাকা বিশেষ চর্বির জন্য সাগরের থেকে নদীর ইলিশের স্বাদ বেশি হয়।
- এছাড়া নদীর ইলিশের মধ্যে অপেক্ষাকৃত বড় ইলিশ বেশি সুস্বাদু হয়।
- ডিম পাড়ার আগে পর্যন্ত ইলিশের স্বাদ বেশি থাকে, ডিম পাড়ার পর ইলিশের চর্বি বহুলাংশেই কমে যায় এবং পেটি খুবই পাতলা হয়ে যাওয়ায় সেই ইলিশ তেমন সুস্বাদু হয় না।
- অনেকদিনের বাসি মাছের স্বাদও কম হয়।
বাসি ইলিশ কীভাবে চিনবেন
- ইলিশ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখলে তার স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়, এক্ষেত্রে ইলিশ মাছ অনেকটাই নরম হয়। এই মাছ না কেনাই ভালো।
- এছাড়াও বাসি মাছ চেনার উপায় হল সাধারণের তুলনায় ওই মাছের রূপোলি রঙ কম উজ্জ্বল হয়।
কোন ইলিশ কিনবেন না
- আকারে ছোট ইলিশ কেনা একেবারেই বুদ্ধিমেনের কাজ হবে না। কারণ ছোট মাছে স্বাদ পাওয়া যায় না, ফলে পয়সাও নষ্ট হয়।
- এখন সারাবছরই ইলিশ পাওয়া গেলেও তা না কিনে, মরসুমি ইলিশ খাওয়াই ভালো।
তথ্যসূত্রঃ বিবিসি
ছবিঃ ইউনাইটেড নিউজ বাংলাদেশ
