গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
বর্তমানে সারা বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ জল সংকটের শিকার। পৃথিবীর ৩ ভাগ জল থাকলেও জল সংকটের সম্মুখিন কয়েক কোটি মানুষ। জলবায়ুর পরিবর্তন এবং ভিন্নধর্মী আবহাওয়া হওয়ার কারণে এই সমস্যার ভুগছে বহু দেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম থেকে জানা যায়, বিশ্বজুড়ে জল সংকট সমাজের ক্ষেত্রে চার নম্বর ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
২০১৪ সালের খরার পর থেকে, কেনিয়ার কিউঙ্গার বাসিন্দারা সোমালিয়ার সীমানা থেকে কয়েক মাইল দক্ষিণে অবস্থিত, সমুদ্র নোংরা লবণাক্ত জল ব্যবহার করতে বাধ্য হত। তা না হলে তাদের প্রায় এক ঘণ্টার পথ যাত্রা করে পানীয় এবং অন্যান্য ব্যবহার্য জল আনতে হত। সেই জলও যে বিশুদ্ধ ছিল তা নয়, পশুপাখির স্নান এবং পরজীবীতে ভরে থাকার ফলে দূষিত ছিল সেই জল।
এই সকল সমস্যা এড়াতেই গিভপাওয়ার নামক একটি এনজিও এক অভিনব প্রয়াস করে। তারা কেনিয়ার একটি ছোট্ট গ্রামের দরিদ্র জেলে সম্প্রদায়ের জন্য সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি নির্লবীকরণ পদ্ধতির ব্যবস্থা করেন। এই পদ্ধতিতে সহজেই সমুদ্রের জলকে পানীয় জলে রূপান্তরিত করা যায়। প্রতিদিন প্রায় ৭০ লিটার পানীয় জল সরবরাহ করা সম্ভব এই পদ্ধতিতে। যা প্রায় ৩৫,০০০ মানুষের তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে।
এই পদ্ধতিতে সমুদ্রের লবণাক্ত জল থেকে লবণ এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থ সহজেই আলাদা করা যায়। এক্ষেত্রে জল অতি তীব্র গতিতে একটি ঝিল্লির মধ্যে দিয়ে পরিচালিত করা হয়। যদিও এর জন্য প্রচুর পরিমাণে শক্তি প্রয়োজন হত। নির্লবীকরণ পদ্ধতিতে জল বিশুদ্ধকরণ এবং তা পানযোগ্য করে তুলতে এই প্রক্রিয়াতে বিপুল পরিমাণে রাসায়নিক ব্যবহার করা হত।
সম্প্রতি এনজিওটি সেই সমস্যারও সমাধান করে আরও উন্নতমানের একটি প্রযুক্তির স্থাপন করেছে। যার নাম ‘সোলার ওয়াটার ফার্ম’।
এই অভিনব পদ্ধতিতে সৌর প্যানেলকে কাজে লাগানো হয়েছে। যেখানে প্রতিদিন ৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন হয়। এই শক্তি ধরে রাখা হয় দুটি উচ্চ কর্মক্ষমতা সম্পন্ন টেসলা ব্যাটারির মধ্যে। এর সাহায্যে দুটি জলের পাম্প চালনা করা হয়, যা প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা কাজ করে। সেখান থেকেই উৎপন্ন হয় বিশুদ্ধ পানীয় জল।
বর্তমানে ভারত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত এই গ্রামে বিশ্বের সর্ব প্রথম ‘গিভপাওয়ার সোলার ওয়াটার ফার্ম’ অবস্থিত। ওই গ্রামের ৩৫০০ জনগণ এখন ট্যাপের মাধ্যমে পরিষ্কার, বিশুদ্ধ পানীয় জল পেতে পারে।
গিভপাওয়ার এমনভাবেই বিশ্বের সর্বত্র সোলার ওয়াটার ফার্ম স্থাপন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর জন্য তারা একটি ফান্ডের ব্যবস্থাও করেছেন। জানা গিয়েছে প্রায় ১৭টি দেশের ২,৬৫০টি এলাকায় এই ধরণের সোলার ওয়াটার ফার্ম স্থাপন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

