গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
বসন্তে পাহাড়ে আলাদাই সৌন্দর্য। প্রকৃতি সেখানে রঙিন চাদর মুড়ি দিয়ে বসন্তকে উপভোগ করছে। লাল, হলুদ, গোলাপি, সবুজ, কমলা কত রঙবেরঙের ফুল। তারই মাঝে এক ঢালা নীল আকাশ। আঁকাবাঁকা পথে ছড়িয়ে রয়েছে রাঙা শিমূল ও পলাশ। বিকালবেলা দূরের পাহাড়ের আড়াল থেকে উঁকি দেয় সূর্যের ক্ষীণ রশ্মি। কোলাহল মুক্ত এই জায়গায় সন্ধ্যা নামলেই চারিদিক নিস্তব্ধ। ঝলদা থেকে যখন ইচাক মোড় হয়ে জজহাতুর পথে যাবেন, ঠিক এমনই অপরূপ সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে পারেন আপনিও।
জঙ্গলের পথ ধরে যতই এগবেন ততই কাছে আসবে দূরের আবছা পাহাড়গুলি। সেখানে দেখতে পাবেন তিনটি পাহাড়, নাম জারিয়া, সিন্দ্রিয়া এবং কীর্তনিয়া। পুরো গ্রামটাই আদিবাসীদের বাসভূমি। পুরুলিয়ার এই ছোট্ট গ্রামটিতে গেলে মনে হবে আপনি স্কটল্যান্ডে এসে পরেছেন।
এখানে ঘুরে দেখার মতো রয়েছে বেশ কিছু জায়গা। যেমন পাদরি বাঁধ, চাতমঘুঁটু ও নরোহারা ড্যাম, লাকরাকুঁদি বাঁধ, জেলেংসিড়িং থেকে অযোধ্যা পাহাড় ইতাদি।
পাদরি বাঁধঃ
জজহাতুরের পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় স্থান হল পাদরি বাঁধ। যাওয়ার পথে একদিকে পড়বে চামটি পাহাড় এবং অপরদিকে গজাবুরু পাহাড়। সেই পথেই দেখা মিলবে রূপাই নদীর। সবুজ পাহাড়ে ঘেরা পাদরি ড্যামের পরিবেশ আপনার মন ভরিয়ে দেবে।
জেলেংসিড়িং হয়ে অযোধ্যা পাহাড়ঃ
পাদরি থেকে অযোধ্যা পাহাড় দিকে যাওয়ার পথেই পড়বে জেলেংসিড়িং। রাঙা মাটির পথে বিছানো পলাশ ফুল। দু’দিকে শাল-সেগুনের বন। তার ঝিরিঝিরি হাওয়া আর শুকনো পাতার আওয়াজ, এক অন্যরকম ভালোলাগা ঘিরে ধরবে আপনাকে।
চাতমঘুঁটু ও নরোহারা ড্যামঃ
জজহাতু হতে নরোহারা ড্যাম। যাওয়ার পথে প্রথমে পড়বে চাতমঘুঁটু। ঘন জঙ্গলের মাঝ থেকে সেই রাস্তা। পথে দেখা মিলতেই পারে ময়ূর বা হরিণের। দেখা না পেলেও তাদের ডাক কানে শুনতে পাবেন, সেই নিয়ে সন্দেহ নেই। চাতমঘুঁটু থেকে কিছুটা এগিয়ে গেলেই নরোহারা ড্যাম। যার অপূর্ব পরিবেশ মন হারানোর মতো।
লাকরাকুঁদি বাঁধঃ
জজহাতু থেকে হেঁটেই যেতে পারবেন লাকরাকুঁদি বাঁধ। প্রায় দশ মিনিট হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন সেখানে। লাকরাকুঁদি নামটির পিছনে রয়েছে একটি অন্য গল্প। এক্ষেত্রে ‘লাকরা’ কথার অর্থ নেকড়ে, এবং ‘কুঁদি’ কথার অর্থ পুঁতে দেওয়া। শোনা যায়, এখানে একসময় নেকড়ে মেরে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। সেই থেকেই ওই নামের উৎপত্তি। বর্ষায় সিন্দ্রিয়া, কীর্তনিয়া এবং জারিয়ার কোল বেয়ে নেমে আসা বৃষ্টির জলই ভরিয়ে রাখে লাকরাকুঁদি বাঁধ।
কীভাবে যাবেনঃ
ট্রেনঃ হাওড়া স্টেশন থেকে রাঁচি শতাব্দী এক্সপ্রেসে চেপে মুরি জংশনে নামতে হবে। তারপর সেখান থেকে গাড়িতে জজহাতু। এছাড়া হাওড়া বা সাঁতরাগাছি থেকে ট্রেনে পুরুলিয়া। সেখান থেকে ট্রেন বদলে ঝালদা।
তবে জেনে রাখা ভালো ওখানে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া খুব কঠিন। থাকার জন্য ঘরের ব্যাবস্থা রয়েছে তবে চাইলে তাঁবুতেও থাকতে পারবেন। বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে যাওয়ার জন্য জজহাতু একটা আকর্ষণীয় গন্তব্য। এই বসন্তে অল্পদিনের রোমাঞ্চকর ট্রিপের জন্য জজহাতু একটা অন্যরকম ডেসটিনেশন হতে পারে।
