গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
বিশ্বব্যাপী এই মহামারী প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে লক্ষাধিক মানুষের- এ যেন খুব পরিচিত এক চিত্র বর্তমানে মানুষের। কিন্তু এর পরোক্ষ প্রভাব যে কতদূর অবধি যেতে পারে তার কোনো সীমারেখা নেই। এই লকডাউন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারতীয় বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা। ইতিমধ্যেই কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়ে গেছে বহু সংস্থায়। আগামী দিনেও ছাঁটাই হবে কি না তা নিয়েও তৈরী হয়েছে জট। এমত অবস্থায় কিছু বেসরকারি সংস্থা উদ্যোগ নিয়েছেন ‘ওয়ার্ক ফর্ম হোম-এর, যাতে পৃথিবীর এই অচলাবস্থা কিছুটা কাটে। হয়তো কিছুটা কাটছেও, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে দেখা দিচ্ছে নতুন সমস্যা।
পৃথিবী যখন স্বাভাবিক ছিল তখন অত্যাধুনিক জীবনের গতির সাথে পা মিলিয়ে চলতে গিয়ে বহু মানুষের সঙ্গী হত স্ট্রেস। আর এখন লকডাউনের সময় বাড়িতে থাকার ফলে নেই কর্মবিরতি, বরং ওয়ার্ক সিডিউল যায় উলটপালট হয়ে। যাঁরা ওয়ার্ক ফ্রম হোম-এর সঙ্গে যুক্ত এখন কাজ তাদের করতে হচ্ছে আগের দ্বিগুন, যেহেতু অফিস আওয়ার্স-এর কনসেপ্টটাই এখন অর্থহীন। বাড়ির কাজ সাথে অফিসের কাজ, নিয়মমাফিক রুটিনের হয় ছন্দপতন। একেই বন্দীদশায় জেরবার মানুষ তার উপর দেখা দিতে থাকে নিদ্রাভাব।
এক্সপ্রেস স্ক্রিপ্টের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২০-র মার্চের মধ্যেই অ্যান্টি-ইনসমনিয়া, অ্যান্টি-অ্যাঞ্জাইটি, অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট মেডিকেশনের হার বেড়েছে ২১%। ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতি আমাদের জীবদ্দশায় নজিরবিহীন — এটি সর্বদা, সকলকে প্রভাবিত করে’- এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথের কমপ্রিহেনসিভ এপিলেপসি সেন্টার-স্লিপ সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর এমডি আলসিবিয়াদস রদ্রিগেজ জানান। এখনকার এই অগোছালো দিনগুলো সবকিছু যেন আরো কঠিন করে দিচ্ছে। তাই কিছু জিনিসের প্রতি সচেতন হওয়া উচিত সকলের-
- নিজের পুরানো রুটিন মেনে চলা। যে কাজ যে সময়ে করতেন তা এখনো সেইভাবেই করা। দুপুরে ঘুমের অভ্যাস ত্যাগ করা। তার সাথে খাবার ও রাতের ঘুমের সময় ধার্য করা। কারণ যাঁরা ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন তাদের ক্ষেত্রে রাতে ঘুম না আসার এক প্রবল প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ১০ জনের মধ্যে ৭ জন ভুগছেন নিদ্রাহীনতায়।
- স্লিপ সিডিউল পাল্টানোর সাথে সাথে শুরু করতে পারেন এক্সারসাইজ। আর যদি আর্লি টু বেড, আর্লি টু রাইজ-এর ফর্মুলা মেনে যদি পারেন এবং সকালের রোদ গায়ে মেখে ব্যায়াম করতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই ! ভোরের রোদ আমাদের শরীরে মেলাটোনিন হরমোন লেভেল বজায় রাখে। আর তা আমাদের ঘুমকে করে স্বাভাবিক।
- বাড়িতে বসে কাজের ক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথায় রাখা খুব জরুরি, আর সেটা হল ওয়ার্কপ্লেস। এমন অনেকেই আছেন যাঁরা বিছানায় বসে কাজ করেন, কিন্তু তাঁরা হয়তো এটা জানেন না আমাদের মস্তিস্ক বিছানার সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক আছে বলেই মনে করে। তাই স্বাভাবিকভাবে বিছানায় কাজ করতে বসলে ল্যাথারজি আসবেও। কাজ ও ঘুমের জায়গা না গুলিয়ে আলাদাভাবে করুন, এতে মস্তিস্কও বিভ্রান্ত হবে না, মানুষও না!
- স্ট্রেস তো থাকবে কর্মজীবনে, কিন্তু ঘুমোতে যাওয়ার আগে মানুষের উচিত স্ট্রেসকে যতটা সম্ভব কম সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া। দুশ্চিন্তা নয়, রিল্যাক্স হয়ে ঘুমোতে যান। আর ঘুমোনোর আগে কিছু ব্রিদিং এক্সারসাইজ ঘুম আসতে সাহায্য করবে, করতে পারেন নিয়ম করে।
- ত্যাগ করতে হবে গ্যাজেট নির্ভরশীলতা। ল্যাপটপ ছাড়া প্রায় সব মানুষেরই এখন সারাদিনের সঙ্গী মোবাইল ফোন, টেলিভিশন। ঘুমোতে যাওয়ার আগে ফোনের ব্যবহার যথেষ্ট ক্ষতিকারক। রাত জাগার অভ্যাস উল্টে ঘুম না আসার কারণ হয়ে যায়।
