গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক।

এই পৃথিবীর বুকে এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেসব জায়গাগুলি এখনও রহস্যমণ্ডিত। তেমনই আজকের প্রতিবেদনে আপনাদের সন্ধান দেব এমনি এক অজানা রহস্যের সনম্ধান যা হয়তো আপনারা এর আগে কেউই ভেবে দেখেননি। জানেন কি পাইলটরা সাধারণত মাউন্ট এভারেস্ট এবং প্রশান্ত মহাসাগরের ওপরের আকাশপথ বিমান উড়ানের জন্য একপ্রকার এড়িয়েই চলেন। কিন্তু জানেন কি এর নেপথ্যে রয়েচে কী এমন কারণ। কেন বিমান চালকরা আকাশপথে বিমান চালানোর সময় মাউন্ট এভারেস্ট এবং প্রশান্ত মহাসাগরের ওপরের আকাশপথ এড়িয়ে চলেন। কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী এক জনৈক এর নেপথ্যে থাকা কারণ ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, যে কেন প্রশান্ত মহাসাগর এবং মাউন্ট এভারেস্টের ওপর দিয়ে চলাচল করে না।

তাঁর মতে, বেশিরভাগ বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলি সরাসরি হিমালয় পর্বতমালার ওপর দিয়ে চলাচল করা এড়িয়ে চলে। এর কারণ হিসাবে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, হিমালয় পর্বতমালার একাধিক চূড়ার উচ্চতা ২০,০০০ ফুট-এরও বেশি হয়ে থাকে। এর মধ্যে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চ তা ২৯,০৩৫ ফুট। আর বেশিরভাগ বাণিজ্যিক বিমানগুলি সর্বাধিক ৩০ হাজার ফুচ উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে পারে। এ প্রসঙ্গে আরও জানানো হয় যে, হিমালয় পর্বতমালার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় পর্বতচূড়া থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ওড়ার জন্য বিমানগুলিকে বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নীচের অংশের দিক বরাবর এগিয়ে যেতে হয়।আর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের বায়ুস্তর অত্যন্ত পাতলা। এই বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রাও অত্যন্ত কম থাকে। আর এর ফলে বাতাসে টালমাটাল পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে এবং তা অনেকাংশেই যাত্রীদের অসুবিধার কারণ হতে পারে। পাশাপাশি এখানে বায়ুর চাপ অনেকটাই শক্তিশালী এবং পর্বতের উপস্থিতির কারণে বিমান চলাচল অনেকটাই জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ওই ব্যক্তি আরও জানান যে, আকাশপথে বাঁক থাকলে তা পাইলটদের ক্ষেত্রে চলাচলের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক হয়ে থাকে। তবে সেই আকাশপথ যদি সমতল ভূমির ওপর দিয়ে হয় তবেই। সমুদ্রের ওপর দিয়ে এমন বাঁকযুক্ত পথ মোটেই বিমান উড়ানের জন্য সুবিধাজনক নয়। সাধারণত সমুদ্রের ওপর দিয়ে যাত্রা করার ব্যপার থাকলে সেই সময়টা যাতে কম হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সমুদ্রপথ থাকলে অনেকসময়েই তার আগে জরুরী অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন পাইলটরা। সেই জরুরী অবতরণ অবশ্যই সমতল জমিতেই করা হয়। হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে কোনও সমতলভুমি না থাকায় প্রয়োজনে জরুরী অবতরণও সম্ভব হয় না। তাই সর্বপরিভাবে পার্বত্য অঞ্চলে বিমানের ঝুঁকির কারণ স্বাভাবিকভাবেই অনেকটা বেড়ে যায়।

সমুদ্র তটবর্তী অঞ্চল হোক বা পার্বত্য অঞ্চল-অক্সিজেনের অপ্রতুলতাও যে একটা বিরাট সমস্যা সেই দিকেও আলোকপাত করা হয়েছে। যে উচ্চতায় গেলে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়, সেই উচ্চতা প্রযন্ত উড়ে গেলে পাইলটরা ১০ হাজার ফুট পর্যন্ত নীচের দিকে নেমে আসে আর পার্বত্য অঞ্চলে ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমান চালানো মানে মৃত্যুকে স্বাগত জানানো। পাশাপাশি, এই ধরণের এলাকায় জনবসতী কম হওয়ার জন্য রাডার পরিষেবার অস্তিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। সুতরাং পাইলটেরও ভূমির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের কোনও মোড নেই। আর ও একটা বিষয় যেটি তুলে ধরা হয়েছে, তা হল, ভারতীয় বায়ুসেনা এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের প্রশিক্ষণ চলে হিমালয়ের পার্বত্য উপত্যকা অঞ্চলে, সেইকারণে বাণিজ্যিক বিমান এই অঞ্চলে ওঠা-নামা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে সোজা পথে যাওয়ার চেয়ে পাইলটরা  ভূমির ওপর দিয়ে বাঁকানো পথে যাওয়ায় বেশি সুবিধাজনক মনে করেন, এতে বিপদের সম্ভাবনা যেমন কমে তেমনই যাত্রাপথও ছোট হয়। চ্যাপ্টা মানচিত্রে এই দূরত্ব পরিমাপ করলে আপনার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হবে না। কারণ আমাদের পৃথিবী কিন্তু চ্যাপ্টা নয়, গোলাকার। বিষয়টি বোঝার জন্য আপনি একটা গ্লোব নিতে পারেন। এবার গ্লোবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্য এশিয়ার কোনো দেশ চিহ্নিত করুন। এবার একটি সুতোর সাহায্যে বিমানের যাত্রাপথ এবং সমুদ্রের ওপরের যাত্রাপথ মেপে দেখুন, দেখতে পাবেন সোজা পথের চেয়ে বাঁকানো পথই স্বল্প দৈর্ঘ্যের।