গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
আয়নাতে আমরা সকলেই নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখি। এটা আমাদের রোজকার জীবনের একটা অঙ্গ বটে। তবে জানেন কি পৃথিবীরও একটা আয়না রয়েছে! যেখানে প্রকৃতি তার অপার সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি নানভাবে ফুটিয়ে তোলে। বলা হয় সেই আয়নাই নাকি পৃথিবীর সব থেকে বড় প্রাকৃতিক আয়না।
দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়ায় অবস্থিত সেই প্রকাণ্ড আয়না। যা আসলে একটি লবণ সমভূমি। নাম ‘সালার দি ইউনি’। জানা গিয়েছে, এই জায়গাটি আগে সমুদ্রের তলায় ছিল। তবে আন্দিজ পর্বতমালার উত্থানের সময় এই অঞ্চলটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২,০০০ ফুট উপরে উঠে আসে।
এর পর বহু বছর কেটে গিয়েছে। বর্তমান সময় থেকে প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে ওই স্থানে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল, যার নাম ‘লেক মিনচি’। কয়েক হাজার বছর ধরে সেই হ্রদ বিবর্তন হয়ে তার জল শুকিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে জমে রয়েছে নানা খনিজ পদার্থ সহ লবণ।
‘সালার দি ইউনি’-এর আয়তন প্রায় ১০ হাজার ৫৮২ বর্গ কিলোমিটার। বর্ষার সময় এই শুকনো সমতল লবণভূমির উপরে জল জমে যায়। আর সেই সমতল ভূমি এতটাই স্বচ্ছ যে জলে নীল আকাশের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে সেখানে। আর এভাবেই সৃষ্টি হয় প্রাকৃতিক আয়নার। এখানকার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মতো অপার্থিব সৌন্দর্য বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায় না। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আকাশের সেই প্রতিবিম্ব দেখলে চোখ সরানো যায় না। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা সেই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতেই সালার দি ইউনি-তে এসে থাকেন।
তবে শুধু ‘সালার দি ইউনি’ নয়, বলিভিয়াতে বেড়ানোর জন্য রয়েছে বেশ কিছু ছোট ছোট দ্বীপ। সেখান থেকেও উপভোগ করা যায় প্রাকৃতিক আয়নাকে। এছাড়াও দ্বীপগুলিতে রয়েছে বহু পুরনো প্রজাতির ক্যাকটাসের জঙ্গল।
ভ্রমনপ্রেমীদের থাকার জন্য সেখানে হোটেলের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে সেখানকার চমকপ্রদ একটি হোটেল হল ‘প্যালাসিও দি সাল’ অর্থাৎ লবণের প্রাসাদ। এই হোটেলটিতেও পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। কারণ হোটেলটি সম্পূর্ণ লবণ দিয়ে তৈরী! সেই জন্যেই এর নাম লবনের প্রাসাদ। ২০০৭ সালে গড়ে ওঠা এই হোটেলটির দেওয়াল, ছাদ, আসবাব ও মেঝে সবকিছুই লবণের। শোনা যায়, হোটেলটি নির্মাণের জন্য প্রায় ১৪ ইঞ্চি দৈর্ঘের ১০ লক্ষ নুনের ইট ব্যবহার করা হয়েছিল।
এতক্ষণে বোঝাই যাচ্ছে, আস্ত জায়গাটাই একটি উন্মুক্ত খনি! জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বাসিন্দারা জীবিকা নির্বাহের জন্য সেখান থেকে লবণ সংগ্রহ করে। লবণ ছাড়াও ওই এলাকায় প্রচুর পরিমাণে ‘লিথিয়াম’ ধাতু পাওয়া যায়।
আমরা নিত্যদিন কৃত্তিম আয়নাতে নিজেদের দেখে থাকি। তবে প্রকৃতিও যে নিজের দায়িত্বে সুবিশাল আয়না তৈরী করে প্রতি মুহূর্তের নিজের প্রতিবিম্ব দেখছে সেই মুহূর্তকে চাক্ষুষ দেখতে হলে ঘুরে আসতেই পারেন সালার দি ইউনি।


কমেন্টস
Nice artical, thanks for sharing us
Awesome