গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|

ইংরাজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ১০ ফেব্রুয়ারি। তবে আজকের দিনটি আর পাঁচটা দিনের মতো সাধারণ নয়। সারা বিশ্বই মেতে রয়েছে এই দিনটি নিয়ে। কারণ গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে ভ্যালেন্টাইন্স উইক। সেইমতন আপনারা সকলেই জানেন আজ টেডি ডে। তবে বলে রাখি আজ আরও একটা বিশেষ দিন। আজ যে তাদের জন্মদিন! এটা ভুলে গেলে চলে কি? তাদের সঙ্গে পরিচয় সেই ক্ষুদে বয়েস থেকে। একটা বিড়াল আর একটা ইঁদুর। যারা সারাক্ষণ একে অপরের সঙ্গে লড়াই করে। কেই কাউকে পছন্দ করে না। আবার একে অপরকে ছাড়া থাকতেও পারে না। দীর্ঘ ঝগড়াঝাঁটির মধ্যেও তাদের বন্ধুত্ব চিরকাল অটুট থেকেছে। সেই দুষ্টু বিড়ালটার নাম ‘টম’ আর ছোট্ট ইঁদুরটা হল ‘জেরি’। ছোটবেলায় মন ভালো থাকার একমাত্র সঙ্গী ছিল ‘টম অ্যান্ড জেরি’। শুধু ছোটবেলাই নয় এখনও পর্যন্ত টিভিতে তাদের দেখা মিললে চোখ সরানো যায় না। আর আজ তাদের ৮০তম জন্মদিন। তবে জানেন কি এই কার্টুনটা কীভাবে শুরু হয়েছিল।

১৯৩০ সালের শেষের দিকে রুডলফৃ আইসিঙের এম.জি.এম অ্যানিমেশন স্টুডিওর একটি অংশ ছিলেন গল্পলেখক এবং কার্টুন চরিত্র ডিজাইনার ‘উইলিয়াম হ্যানা এবং অভিজ্ঞ পরিচালক জোসেফ বারবারা’। তারা যুগ্মভাবে ছবি পরিচালনা করতেন। তাদের তৈরী ছবিগুলোর মধ্যে প্রথমটি ছিল একটি ইঁদুর-বিড়াল কার্টুন যার নাম ছিল “পাস গেটস দ্য বুট”। কার্টুনটির সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে সময় লেগেছিল ১৯৩৯ সাল। কার্টুনটি থিয়েটার হলে প্রথম মুক্তি পায় ১৯৪০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। পাস গেটস দ্য বুট-এর মূল চরিত্রে ছিল জ্যাসপার এবং জিঙ্কস। জ্যাসপার ছিল একটা ধূসর বর্ণের বিড়াল। যে জিঙ্কস নামক একটি ইঁদুরকে ধরার চেষ্টা করে। এভাবেই শুরু হয়েছিল বিড়াল-ইঁদুরের জনপ্রিয় কাহিনি।

এরপর হ্যানা ও বারবারা তাদের অন্যান্য পর্বগুলো ইঁদুর-বিড়ালের কাহিনি ছাড়াই পরিচালনা করতে থাকেন। কারণ সেই সময় এমজিএম-এর অনেক কর্মীরা মধ্যে ইঁদুর-বিড়ালের কাহিনি নিয়ে নেতিবাচক মতামত পোষণ করতে থাকেন। তবে সেই নেতিবাচক ধারণার পরিবর্তন ঘটে যখন কার্টুনটি থিয়েটারের মালিকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর ১৯৪১ সালে অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সাইন্সেসের পক্ষ থেকে কার্টুনটি ‘অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট শর্ট সাবজেক্ট কার্টুনস’ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পায়।

পরে এম.জি.এম এনিমেশন স্টুডিওর প্রযোজক ফ্রেড কুইম্বলি অন্যান্য পর্বের কার্টুন থেকে হ্যানা এবং বারবারাকে সরিয়ে দেন। এর বদলে তাদের ইঁদুর-বিড়ালকে নিয়ে একটি নতুন সিরিজের জন্য নিযুক্ত করেন। হ্যানা এবং বারবারা স্টুডিও থেকে বিড়াল-ইঁদুর জুটি জ্যাসপার ও জিঙ্কসের নতুন নামকরণের জন্য একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। সেখানে অ্যানিমেটর জন কার-এর দেওয়া নাম রাখা হল “টম অ্যান্ড জেরি”। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত এই নামাই তাদের চেনে সারা বিশ্ব।

বেশ কয়েক বছর ধরে টমের দেহের গড়ন ও উপস্থাপনার পরিবর্তন ঘটে। যেমন ১৯৪০ সালের শুরুর দিকে টমের চেহারা ছিল, রোমশ পশম, মুখে অসংখ্য ভাঁজ, ভ্রু এর অনেক মার্কিং। পরে এই সকল বৈশিষ্ট্যগুলো আরো মসৃণ ও স্পষ্ট করা হয়। তবে জেরি অবশ্য সারা সিরিজের সময়জুড়ে প্রায় অপরিবর্তিতই থেকেছে। ১৯৪০ এর মাঝামাঝি সময় থেকে, ওই সিরিজটি আরও বেশি দ্রুত হয়ে উঠেছিল। যার কারণ ছিল ওই সময় এম.জি.এম-এ যোগ দেয় টেক্স এভারি।

এভাবেই ‘টম অ্যান্ড জেরি’র পথ চলা শুরু হয়েছিল। সেই থেকে আজও চলে আসছে এই কার্টুনটি। এমজিএম থেকে ‘টম এন্ড জেরি’র মোট ১১৪টি কার্টুন ভিডিও রিলিজ হয়েছিল। এছাড়া ১৯৬১–৬২ সালের মধ্যে রেমব্রান্ডট ফিল্মস কার্টুনস থেকে ১৩টি। ১৯৬৩-৬৭ সালের মধ্যে সিব টাওয়ার থেকে ৩৪টি। ১৯৭৫ সালে হ্যানা-বারবারা প্রোডাকশন থেকে ৪৮টি। ১৯৮০ সালে ফিল্মেশন অ্যাসোসিয়েট থেকে ২৯টি। ২০০৬-২০০৮ সাল কিডস ডাব্লিউবি থেকে ৭৮টি। ২০০৫ সালে অ্যানিমেশন কার্টুন থেকে ১টি কার্টুন মুক্তি পেয়েছিল। তবে এখানেই শেষ নয়, ২০০৫ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ওয়ারনার ব্রো স্টুডিও থেকে টম এন্ড জেরির আরও ১০টি কার্টুন মুক্তি পেয়েছে। বর্তমানে টম অ্যান্ড জেরি কার্টুনের মালিকানায় রয়েছে টার্নার এন্টারটেনমেন্ট। সব মিলিয়ে মোট ৩২৭টি ভিডিও রয়েছে টম অ্যান্ড জেরি কার্টুন সিরিজের। যেগুলি এখনও পর্যন্ত ছোট থেকে বড় সকলের মন জয় করে চলেছে।