গল্পকুটির ওয়েব ডেস্ক|

সারা পৃথিবীতে বসবাস করছে জানা-অজানা বহু প্রাণী। যাদের মধ্যে কয়েকটিকে মাত্র আমরা চোখে সামনে দেখতে পাই। ঘন জঙ্গলে, মাটির নিচে অথবা গভীর সমুদ্র এমন বহু প্রাণীর বসবাস আছে যা আমাদের জ্ঞানের বাইরে। ইউএসএ টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে নিঙ্গালু গিরিখাতের কাছে গভীর সমুদ্রে গবেষণার সময় বিশাল আকারের সুতোর মতো অদ্ভুত একটি সামুদ্রিক প্রাণীর সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা।

কিছুদিন আগেই ‘The Schmidt Ocean Institute’ থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। সেখানেই দেখা যায় অদ্ভুত এই প্রাণীটিকে। অ্যাপোলেমিয়া (Apolemia) নামক এই প্রাণীটি একধরনের সিফোনোফোর (siphonophore )প্রজাতির জীব। এই প্রজাতির প্রাণীরা সাধারণত গভীর সমুদ্রে বসবাস করে। খাবারের জন্য এরা কোরাল বা জেলিফিশের মতই শিকার করে ছোট মাছ, ক্রাস্টাসিন এবং অন্যান্য সিফোনোফোর প্রাণীদের। সমুদ্রের ৬৩০ মিটার গভীরে এই প্রাণীটির সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। বিশাল কুণ্ডলী পাকানো সুতোর মতো বা ছায়াপথের ন্যায় সর্পিলাকার দেখতে এই প্রাণীটিকে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাণী বলেই দাবি করেছেন।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক জাহাজ থেকে প্রথম দেখতে পেয়েছিলেন এই প্রাণীটিকে। তারা রিমোট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে ছবি তোলেন বিশালাকৃতির সেই প্রাণীর। ‘The Schmidt Ocean Institute’ -এর তথ্য অনুযায়ী, এই সামুদ্রিক প্রাণীর সবথেকে বাইরের বলের ব্যাস প্রায় ১৫ মিটার বা ৪৯ ফুটের কাছাকাছি এবং সম্পূর্ণ প্রাণীটার দৈর্ঘ্য আনুমানিকভাবে ১৫৪ ফুট। যেহেতু ছবির উপর নির্ভর করে বিজ্ঞানীরা প্রাণীটির দৈর্ঘ্য অনুমান করেছেন তাই এর সঠিক দৈর্ঘ্য এখনো জানা যায়নি।

এখানেই শেষ নয়, পৃথিবীর বৃহত্তম এই প্রাণীটির দেহ থেকে এক বিশেষ আলোর বিচ্ছুরণ লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে আলোটি যে ওই প্রাণীটির দেহ থেকেই নির্গত হচ্ছিল তা বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট নয়। কারণ ওই আলোক বিচ্ছুরণ রিমোট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ওই যন্ত্র থেকে নির্গত আলোর জন্যও হতে পারে। এ নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে চলছে আরও গবেষণা।