গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
পৃথিবীর একটা বৃহৎ অংশ জুড়ে রয়েছে জল। সেই সুবিশাল জলরাশির গভীরে লুকিয়ে রয়েছে অনেক অজানা রহস্য। আর সেই সকল রহস্যগুলির মধ্যে বহুচর্চিত একটি বিষয় হল ‘দ্য ফ্লাইং ডাচম্যান’। আমরা কমবেশি সকলেই এই নামটির সঙ্গে পরিচিত। ফ্লাইং ডাচম্যান আদতে একটি প্রাচীন জাহাজ। তবে জাহাজটি কোনও সাধারণ জাহাজ নয়। এর নাম শুনলেই আঁতকে ওঠেন নাবিকরা। কারণ জাহাজটি একটি ভূতুড়ে জাহাজ। এই জাহাজটিকে কেন্দ্র করে রয়েছে বহু কাহিনি।
এই ভূতুড়ে জাহাজটি ঠিক কোথায় এবং কবে তৈরী হয়েছিল তা এখনও আজানা। তবে বেশ কিছু পর্তুগিজ নথি ঘাঁটলে জানা যাবে, ষোড়শ শতকে দিকে প্রথম যাত্রা শুরু করে এই জাহাজটি। এটি নির্মাণ করেছিল ওলন্দাজরা। শোনা যায়, সেই সময় জলপথে সব থেকে বেশি পারদর্শী ছিল তারাই।
যেহেতু ফ্লাইং ডাচম্যান নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই, তাই জাহাজটির নেতৃত্বে কে ছিলেন সে বিষয়েও রয়েছে বহু মতবিরোধ। তবে যেটুকু জানা গিয়েছে ওই ব্যাক্তির নাম ছিল ভ্যান্ডারডেকেন।
তবে আপনাদের মনে প্রশ্ন দানা বাঁধতেই পারে, কেন এই জাহাজটিকে ভূতুড়ে জাহাজ বলা হয়? কী এমন ঘটেছিল ওই জাহাজে?
শোনা যায়, ১৭২৯ সালে কেপ টাউনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল জাহাজটি। যাত্রা পথে একটি ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড় আসে। সেই ঝড়ের আতঙ্কে জাহাজের ক্রুরা ক্যাপ্টেনকে অনুরোধ করেন জাহাজ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। তবে ক্যাপ্টেন জাহাজ ফেরাতে রাজি ছিলেন না। সেই নিয়ে কিছু নাবিক একজোট হয়ে বিদ্রোহ শুরু করে। ক্যাপ্টেন তৎক্ষণাৎ বিদ্রোহীদের গুলি করে হত্যা করেন। তারপর মৃতদের লাশগুলি সাগরের জলে ফেলে দেন। তবে সেই বিধ্বংসী ঝড়ে টিকে থাকতে না পেরে ডুবে গিয়েছিল আস্ত জাহাজটি। তারপর থেকেই ফ্লাইং ডাচম্যানকে ঘিরেই সূত্রপাত হয় বিভিন্ন ভৌতিক ক্রিয়াকলাপের।
তবে এখানেই শেষ নয়। ওই ঘটনার পর থেকে সমুদ্রে প্রয়শই জাহাজটিকে দেখা যায়। অনেকেই সেই রহস্যময় জাহাজ দেখেছেন বলে শোনা গিয়েছে। বলা হয় এই জাহাজের মৃত্যুর বার্তা বহন করে বেড়ায়। কেউ সমুদ্রে সেই জাহাজ দেখলে তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।
সাল ১৯৩৯। কেপ টাউনের সমুদ্রতীরে দেখা গিয়েছিল একটি রহস্যময় জাহাজ। ওই দিন সমুদ্রের তীরে যারা ছিলেন সকলেই দেখেছিলেন, একটি জাহাজ তীব্র বেগে তীরের দিকে ধেয়ে আসছে। তবে তীরে আসার আগেই হঠাৎ করে তা অদৃশ্য হয়ে যায়।
আবার, ১৮৩৫ সালে ওই ভূতুড়ে জাহাজের মুখোমুখি হয়েছিলেন একজন ব্রিটিশ ক্যাপ্টেন। শোনা যায়, তাঁরা সমুদ্রে যাত্রা কালে একটি ঝড় কবলিত রহস্যময় জাহাজ দেখতে পান। সেই জাহাজ ঝড় সমেত তাদের জাহাজের দিকেই এগিয়ে আসে। এক সময় সেই জাহাজটি এতটাই কাছে চলে এসেছিল যে তাঁরা ভেবেছিলেন এখনই বুঝি দুটো জাহাজের সংঘর্ষ হবে। এই ভেবে ভয়ে আঁতকে ওঠেন তাঁরা। কিন্তু পরক্ষনেই সব গায়েব! কোথায় গেল সেই জাহাজ? হঠাৎ করেই সব শান্ত! না আছে ঝড়, আর না আছে সেই জাহাজটি!
এছাড়াও রয়েছে আরও একটি কাহিনি। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। প্যাসিফিক সাগরের উপর দিয়ে নিজের জাহাজ নিয়ে যাচ্ছিলেন নিকোলাস মোন্সার্ট নামের এক নাবিক। সেই সময় তিনি ফ্লাইং ডাচম্যান দেখেছিলেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে রয়েছে আরও অনেক কাহিনি। তবে তার সত্যতা কতটা তা এখনও জানা যায়নি। অনেকেই মন্তব্য করেছেন এসব মানুষের কল্পনা মাত্র। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে এতটাই ভাবেন যে কোনও কিছু না থাকলেও তারা ভাবনায় দেখতে পান। যেগুলির কোনও বাস্তবতা নেই।
তবে বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন মানুষ, আলাদা আলাদা সময়ে জাহাজটিকে দেখার ঘটনাও হেসে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফ্লাইং ডাচম্যান জাহাজটির রহস্য আজও অধরা। এই জাহাজটিকে নিয়ে হলিউডে বেশ কিছু সিনেমাও তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবিয়ান’ এবং ‘প্যান্ডোরা এন্ড দ্য ফ্লাইং ডাচম্যান’।
