গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|

আমরা হাসপাতাল বা ডাক্তারখানায় গেলে চিকিৎসকদের সাধারণত সাদা অ্যাপ্রন পরতে দেখি। তবে যে কোনও অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের অ্যাপ্রনের সেই রং বদলে যায়। তখন ব্যবহার করা হয় নীল বা সবুজ অ্যাপ্রনের। শুধুমাত্র এদেশেই নয়, বিদেশেও এই একই চিত্র দেখা যায়। তবে এই রং বদলের পিছনে কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তা আপনার জানা আছে কি? আসলে এই গাঢ় রঙের অ্যাপ্রনগুলি ব্যাবহার করার ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু মনস্তাত্ত্বিক বিষয়।

এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয় যে অস্ত্রোপচার মানেই রক্তপাত হবেই। তাই অস্ত্রোপচার চলাকালীন ডাক্তারের অ্যাপ্রনে রক্ত লাগাটাও স্বাভাবিক। এবার যদি চিকিৎসকেরা অন্যান্য সময়ের মতো সাদা অ্যাপ্রন পরেই অস্ত্রোপচার করেন, তা হলে সাদা অ্যাপ্রনের উপর লাল রক্তের দাগ পড়লে খুবই চোখে পড়ে। যা দেখতেও খুবই খারাপ লাগে। এছাড়াও আমরা সকলেই জানি, লাল রং সহজেই সকলের নজর কাড়ে। তাই চিকিৎসকরাও সমস্যায় পড়তে পারেন।

আবার যদি অস্ত্রোপচারের সময় রোগী সাদা অ্যাপ্রনে টকটকে লাল রক্ত দেখে তাহলে তিনি আতঙ্কিত হতে পারেন। তাই বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা মেনে ওই সময় নীল, আকাশী বা সবুজ রঙের অ্যাপ্রন পরেন চিকিৎসকরা। কারণ এই সকল রঙগুলি লাল রঙের পরিপূরক।

নীল অথবা সবুজ রঙের উপর যদি লাল রং পড়ে, তাহলে তা কালো বা গাড় বাদামী দেখায়। ঠিক তেমনভাবেই অস্ত্রোপচারের সময় নিল-সবুজ অ্যাপ্রনে রক্তের দাগ পড়লেও তা রক্ত বলে মনে না। তাই স্বাভাবিকভাবেই রোগীর আতঙ্কিত হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

এই মনস্তাত্বিক কারণের জন্যই অস্ত্রোপচারের সময় হাসপাতালের অপারেশন কক্ষের পর্দা থেকে শুরু করে রোগীর বিছানার চাদর ও চিকিৎসকদের অ্যাপ্রন নীল-সবুজ রঙের হয়।