গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
ভারতে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ২৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে লকডাউন জারি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২২ মার্চ তাঁর নির্দেশে দেশে জনতা কার্ফু জারি হয়। এরপর ২৩ মার্চ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিতে লকডাউন জারি হয়েছিল।
সরকারি তরফে জানানো হয়েছে যে, লকডাউন এবং কার্ফু একটি জরুরী ব্যবস্থা, তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এগুলি কার্যকর করা দরকার। ভারতে ‘কোভিড-১৯’ আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে কেরলের পর মহারাষ্ট্রে সব থেকে বেশি করোনার সংক্রমণ হয়েছে।
কোভিড-১৯ সংক্রমণ রুখতে ২৩ মার্চ মহারাষ্ট্র, কেরল এবং অন্যান্য রাজ্যগুলিতে লকডাউন জারি করা হয়। তবে কার্ফু এবং লকডাউনের পার্থক্য হয়তো অনেকেই জানেন না। এখন গোটা দেশজুড়ে লকডাউন জারি রয়েছে, জেনে নিন এই দুইয়ের পার্থক্য কোথায়।
কার্ফু কী?
কার্ফু চলাকালীন বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে বাড়িতে থাকতে হয় এবং কাউকে বাইরে বেরোনোর অনুমতি দেওয়া হয় না। এক্ষেত্রে প্রশাসনের তরফে জারি থাকে সিআরপিসির ১৪৪ নম্বর ধারা। উদাহরণস্বরূপ, ধর্মীয় দাঙ্গা এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি চলাকালীন মানুষের রাস্তায় জমায়েত হওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য কার্ফু জারি করা হয়। কার্ফু চলাকালীন মানুষ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাড়ির ভিতরে থাকতে বাধ্য হয়।
১৪৪ নম্বর, ধারা অনুযায়ী কার্ফুর নিয়ম অনেকটাই কঠোর। এর জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্র থেকে সেনা মোতায়েন করা হয়। কেউ সেই নিয়ম লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।
লকডাউন কী?
লকডাউন একটি জরুরী অবস্থা। জনসাধারণকে বড় দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার জন্য লকডাউন জারি করা হয়। দেশজুড়ে লকডাউনের অর্থ মানুষ নিজের বাড়ি থেকে বেরোতে পারবে না। শুধুমাত্র নির্দেশিত কারণেই বাড়ির বাইরে যাওয়া যায়। লকডাউনের মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া থেকে বিরত রাখা।
লকডাউন কার্ফুর তুলনামূলকভাবে কম কঠোর। লকডাউন জারি হলে রাজ্য প্রসাশন থেকে উপযুক্ত ব্যাবস্থা নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে জরুরি কারণে বাড়ির বাইরে যাওয়া যায় যেমন, হাসপাতালে যেতে হলে, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে হলে বা খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করতে হলে। তবে নির্দেশিত কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোলে প্রশাসন থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
