গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
মা কি শুধু মেয়েরাই হতে পারে? শারীরিকভাবে মেয়েরা মা হতে পারলেও। পুরুষরাও চাইলেই হতে পারেন। কারণ মা হওয়া একটা সুন্দর অনুভূতি। যার মধ্যে কখনই লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য আসতে পারে না। একজন পুরুষও যে মা হতে পারেন তা প্রমান করে দেখালেন পুনের আদিত্য তিওয়াড়ি। শুধু তাই নয়, বিশ্বসেরা মায়ের সম্মানে ভূষিত হয়েছেন এই পুরুষ।
আদিত্য পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। তার পক্ষে মা হওয়ার পথটা নেহাৎ সহজ ছিল না। জানা গিয়েছে, আদিত্য তার বাবার জন্মদিন উপলক্ষে একটি অনাথাশ্রমে গিয়েছিলেন সেখানেই তিনি বছরখানেকের একটি ছোট্ট শিশুকে দেখতে পান। আশ্রমে তিনি জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন, শিশুটি ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত। শিশুটির নাম অবনীশ। তারপর থেকে আদিত্য প্রায়ই অবনীশের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। দীর্ঘ দেড় বছর লড়াই করে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি আদিত্য ছোট্ট অবনীশকে দত্তক নিতে সক্ষম হন। তখন থেকে শুরু করে আজও তিনি অবনীশের ভরণ-পোষণ এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অবনীশকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসে বড় করছেন আদিত্য। তার কাছে অবনীশ ভগবানের পাঠানো সেরা উপহার। অবনীশকে সন্তানস্নেহ দিতে গিয়ে আদিত্য কখনই নিজেকে ‘মা’ বা ‘বাবা’ হিসাবে ভাবেননি। তিনি সর্বদাই অবনীশের চোখে একজন ভাল অভিভাবক হয়ে উঠতে চেয়েছেন।
আদিত্য এভাবেই ভেঙে দিয়েছেন আমাদের সমাজের গতানুগতিক চিন্তাধারা। শুধু মহিলাই নয়, একজন পুরুষও যে মা হতে পারেন সেই পথ দেখিয়ে দিলেন আদিত্য। নিজের সন্তানকে প্রতিপালন করতে তিনি তাঁর আইটি ফার্মের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে তিনি বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের অভিভাবকদের কাউন্সেলিং করাতে শুরু করেন। তিনি রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকেও ডাক পেয়েছিলেন। সেখানে অনুষ্ঠিত বিশেষ মানসিক ক্ষমাতাসম্পন্ন শিশুদের লালন করার বিষয়ে একটি বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে, বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বিশ্বসেরা মায়ের সম্মান পেয়েছেন আদিত্য। মাতৃত্ব একটা মানসিক অনুভূতি এবং এক্ষেত্রে কোনও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নেই তা চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন আদিত্য।

কমেন্টস
সত্যিই অসাধারণ তথ্য দিয়েছেন।
exclusive information , respect him , love to read your information