গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|

সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রিয়েছে বেশ কিছু রহস্যময় স্থান। যার কয়েকটির সঙ্গে আমরা পরিচিত হলেও বেশিরভাগই অজনা। যেগুলির ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীরা হাজার গবেষণার পরেও সঠিকভাবে দিতে পারেননি। আজ আমাদের আলচনার বিষয় পৃথিবীর কিছু আশ্চর্যজনক স্থান, যেগুলি শুধু রহস্যময় নয় ভয়ংকরও বটে!

নরকের দরজাঃ তুর্কমেনিস্তানের কারা-কুর মরুভূমির দারভাযা গ্রামের পাশে অবস্থিত এই রহস্যময় স্থানটি। এটি একটি জ্বলন্ত গর্ত যা ‘নরকের দরজা’ বা ‘ডোর টু হেল’ নামে পরিচিত। ১৯৭১ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত এই গর্তটি দাউ দাউ করে জ্বলছে। ১৯৭১ সালে এই জায়গাটিতে একটি গ্যাস খনির সন্ধান পাওয়া যায়। গবেষণায় জানা যায় সেখানে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস রয়েছে সীমিত পরিমাণে। যাতে এই গ্যাস না ছড়ায় গবেষকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই স্থানে গর্ত করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। যাতে ওই গ্যাস জ্বলে শেষ হয়ে যায়। তবে সেই আগুন আজও নেভেনি।

জোন অব সাইলেন্সঃ মেক্সিকোর ডুরাঙ্গোর ‘জোন অব সাইলেন্স’ আদতে একটি মরুভূমি অঞ্চল। যার চারিদিকেই বিরাজমান একটি থমথমে পরিবেশ। এই এলাকায় কোন মানুষের বসবাস নেই। তার একমাত্র কারণ হল সেখানে সর্বক্ষন অদ্ভুত ধরণের ঘটনা ঘটতে থেকে। যেমন, রাতের বেলায় প্রায়শই সেখানে উল্কা বৃষ্টি দেখা যায়। আবার কেউ যদি টেপ রেকর্ডার বাজায়, তা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যা। এই সকল ভূতুড়ে কাণ্ডকারখানা এখানেই শেষ নয়। ওই জায়গায় কেউ গাড়ি নিয়ে গেলে, তা চলতে চলতে হঠাৎ করেই খারাপ হয়ে যায়। এই ধরণের আরও অনেক অদ্ভুত ঘটনা রয়েছে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে। তবে এই সকল ঘটনার মূল কারণ আজও জানা যায়নি। বলা বাহুল্য ‘জোন অব সাইলেন্স’ এবং বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল একই অক্ষাংশে অবস্থিত।  

খুনি হ্রদঃ ক্যামেরুনে নয়স (NYOS) হ্রদকে ‘খুনি হ্রদ’ বা ‘কিলার লেক’ বলা হয়। হ্রদটির এমন অদ্ভুত নাম হওয়ার পিছনে রয়েছে অন্য কারণ। আসলে এই হ্রদটি একটি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের পাশেই অবস্থিত। তাই সাধারণভাবেই হ্রদটি লাভায় পরিপূর্ণ। আর সেই লাভার উপর দিয়েই প্রবাহিত হয় জল এবং সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে নির্গত হয় কার্বন–ডাই-অক্সাইড। ১৯৮৬ সালে এই হ্রদ থেকে কার্বন–ডাই-অক্সাইডের বিশাল বুদবুদ বের হয় যা সালফার এবং হাইড্রজেনের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়। ওই ঘটনার পরেই হ্রদটির পার্শ্ববর্তী ২৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই গ্যাস। ফল স্বরূপ প্রায় ১৭০০ মানুষ সহ ৩৫০০ জন গবাদি পশুর মৃত্যু ঘটে। এরপর থেকেই ওই হ্রদকে ‘খুনি হ্রদ’ বলা হয়।

রেসট্র্যাক প্লায়াঃ পৃথিবীর আরও একটি রহস্যময় স্থান হল ‘ক্যালিফোর্নিয়ার রেসট্র্যাক প্লায়া’ বা ‘চলমান পাথর’ উপত্যকা। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হয় এই উপত্যকার পাথরগুলো নিজে থেকেই স্থান পরিবর্তন করে। তবে প্রথমে কেউ সেই পাথরগুলিকে চলমান অবস্থায় কখনো দেখেনি। কিন্তু মাটির উপর ঘর্ষণজনিত ছাপ দেখলে বোঝা যায় পাথরগুলোর স্থান পরিবর্তন হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল ওই পাথরগুলির কয়েকটির ওজন কয়েকশ পাউন্ড! তবে পাথরগুলো কীভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যায়? গবেষকদের মতে, ওই এলাকা বরফে আবৃত থাকে। বছরের নির্দিষ্ট সময় সেই বরফ গলে এবং বরফের প্লেটগুলি আয়তনে বিশাল হওয়ায় একসঙ্গে কয়েকশো পাথরকে একই দিকে ঠেলতে থাকে। ফলে পাথরগুলো একসঙ্গে একই দিকে এগোয়।  

হেসদালেন লাইটঃ নরওয়েতে মধ্য রাত্রে সূর্যোদয়ের ঘটনা আমরা সকলেই জানি। তবে নরওয়ের  হেসদালেনে রাতের আকাশে মাঝের মধ্যেই দেখা যায় এক অদ্ভুত আলো। ১৯৩০ সালে প্রথমবার ওই আলো দেখা গিয়েছিল , তার পর থেকে আজও বছরে ১০ থেকে ১৫ বার আকাশের বুক চিড়ে ফুট ওঠে রঙিন আলো। তবে কেন এই আলোর উদ্ভব হয় তার কারণ রহস্যের আড়ালেই রয়ে গিয়েছে। ওই আশ্চর্যজনক আলোর স্থায়িত্ব কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে ঘন্টাখানেক পর্যন্ত হয়ে থাকে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হল ওই আদ্ভুত আলো যেদিন রাতে দেখা যায়, ওই রাতেই পার্শ্ববর্তী এলাকার জমিতে ক্রপসার্কেলের সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ কোনো খেতের ফসল কেটে বা নষ্ট করে সৃষ্টি করা একটি বিশেষ আকৃতি। এই রহস্যময় ঘটনার কারণ হিসাবে ওই অঞ্চলের মানুষরা দাবি করেন আকাশের ওই আলো ভিনগ্রহীদের যানের থেকেই সৃষ্টি হয় এবং ক্রপসার্কেলগুলি এলিয়েনদেরই কীর্তি।  

ছবিঃ পিক্সাবে, উইকিপিডিয়া,উইকি ওয়ান্ড, ট্রিপ ফ্রিয়াকজ, সায়েন্স হাউ স্টাফ ওয়ার্কস, ফ্লিকার