গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|

সারা বিশ্ব দাপিয়ে বেড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। সংক্রমণের রেশ কখনও কমছে, কখনও বা বাড়ছে। গবেষকদের অবিরাম চেষ্টায় ইতিমধ্যে কোভিড-১৯ প্রতিরোধক ভ্যাকসিন বাজারে এসেছে। টিকাদান প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে এখনও দীর্ঘ সময় লাগবে। সম্প্রতি কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ে জানা গেল নতুন একটি তথ্য। এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা চশমা পরে, তাদের করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা তিন গুণ পর্যন্ত কম। 

এবিপি-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গবেষণায় গবেষকদের দাবি, দরিদ্র এবং নিরক্ষর মানুষদের ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। কারণ হিসাবে গবেষণায় বলা হয়েছে, উক্ত শ্রেণীর মানুষরা প্রতিরোধমূলক নির্দেশিকাগুলো সঠিকভাবে পালন করেন না। পাশাপাশি শিক্ষিতদের তুলনায় তাদের চশমা পরার অভ্যেসও কম। 

যারা চশমা পরে না, তাদের তুলনায় যারা চশমা পরে তাদের করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা ২-৩ গুণ পর্যন্ত কম। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে চশমা পরে থাকলে চশমার যে সুরক্ষামূলক ভূমিকা পরিসংখ্যাণগত দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। চোখে বারবার হাত দেওয়া বা চোখ কচলানো কোভিড সংক্রমণের একটা বড় কারণ। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, যে কোনও মানুষ সারা দিনে নিজের মুখ গড়ে ২৩ বার স্পর্শ করেন। অপরদিকে চোখে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৩ বার হাত দেন। 
আমরা সকলেই জানি মুখ, নাক, চোখে স্পর্শের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ ঘটে থাকে।মাস্ক পরে থাকলে হাত দিয়ে নাক ও মুখ স্পর্শ করা অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু তা চোখকে আড়াল করতে পারে না। 

জানা গিয়েছে, এই গবেষণা করা হয়েছিল ৩০৪ জন কোভিড আক্রান্তকে নিয়ে। প্রশ্ন তালিকার মাধ্যমে তাদের চশমা ব্যবহার করার ধরন সম্পর্কে পর্যালোচনা করা হয় এবং সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে সাধারণদের ওপর গবেষণ প্রাপ্ত তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়। 
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের চোখ সুরক্ষিত রাখতে ফেসশিল্ড এবং গগলস ব্যবহার করা প্রয়োজন। তবে গগলস যে সুরক্ষা দেয়, তা চশমা দিতে না পারলেও বেশ কিছুটা সুরক্ষা মেলে। 

ছবিঃ পিক্সাবে