গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক
সাম্প্রতিক কালে একাধিক সিনেমা বা ওয়েব সিরিজে আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন বিভিন্ন সিরিয়াল কিলারকে, যারা নৃশংসভাবে হত্যা করছেন একাধিক মানুষকে। বা খবরের পাতায় পড়েছেন তাদের সম্পর্কে। কিন্তু আজ আমরা যে সিরিয়াল কিলার সম্পর্কে জানতে চলেছি, তিনি এই সবকিছুর থেকে অনেক বেশি ভয়ানক। তার নৃশংসতা ছাপিয়ে গেছে সিনেমার কল্পনাকেও। যিনি পাঁচ-দশজন নয়, হত্যা করেছেন ৮৪জন মহিলাকে। এরমধ্যে রয়েছেন এক পুলিশকর্মীও।
‘মিখাইল পোপকভ‘, জন্ম ১৯৬৪ সালে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের অঙ্গারস্কে। স্থানীয় পুলিশে কর্মরত ছিলেন তিনি। স্ত্রীর নাম এলিনা পোপকভ। সন্দেহ করা হচ্ছে, স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পরা এপথে ঠেলে দিয়েছিল তাকে। তার শিকারদের মধ্যে সবাই ১৬ থেকে ৫০ বছরের মহিলা। সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে মহিলাদের নির্জনস্থানে নিয়ে যেতেন তিনি, এরপর ধর্ষণের পর কাউকে হাতুড়ি দিয়ে মেরে, কাউকে কুঠার দিয়ে কুপিয়ে, কাউকে আবার ছুরি দিয়ে কেটে অতি নৃশংসভাবে হত্যা করতেন মিখাইল। তারপর সেই খণ্ড-বিখণ্ড দেহ ফেলে দিতেন সমাধিস্থলে বা জঙ্গলে।পুলিশের কাছে ৮১জনকে হত্যার কথা স্বীকারও করেছেন তিনি। রাশিয়ান মিডিয়া এই নৃশংস হত্যাকারীকে ‘The Werewolf’ ও ‘Angarsk Maniac’ বলে আরোপিত করেছে।

২০১২তে পুলিশের হাতে ধরা পরার পর ২০১৫ সালে ২২জনকে হত্যার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় মিখাইলকে। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে, তার আরও হত্যার ঘটনা সামনে আসছে। এই ঘটনার তদন্তকারী অফিসারের মতে মিখাইলের হত্যার সংখ্যা অন্তত ২০০। কয়েকদিন আগেই হাড়হিম করা একটা ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে মিখাইল নিজেই বর্ণনা দিচ্ছেন কীভাবে একটি মহিলাকে তিনি ধর্ষণ করে খুন করেছেন। তদন্তকারী অফিসার ও সরকারি আইনজীবীর মতে খুনের পর এক বিকৃত আনন্দ পাওয়াই মিখাইলকে এই কাজে প্ররোচনা দিত।
ছবি ঋণঃ জোনাথন লোভাট ইনগ্রাম
