গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|

এই পৃথিবী থেকে যা একবার মুছে যায়, তা আর কখনোই ফেরে না। সে মানুষই হোক অথবা পশুপাখি, গাছপালা। দিন দিন মানুষ যত উন্নত হচ্ছে, বদলাচ্ছে তাদের জীবন ধারাও। আর মানুষের বিচরণ নেই এমন জায়গা খুবই কম আছে বলতে গেলে। চাইলেই তারা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যেতে পারে, এমনকি মহাকাশ, চাঁদ এবং মঙ্গলেও মানুষের যাতায়াত রয়েছে। কিন্তু যে কোনো জিনিসেরই খারাপ এবং ভালো উভয় দিকই রয়েছে, ঠিক তেমনই উন্নতির অপর প্রান্তে রয়েছে ধ্বংসলীলা। আমরা নিজেদের সুবিধার কথা ভেবে এগিয়ে যাচ্ছি আর তার জন্য সমস্যায় পড়ছে বিভিন্ন পশুপাখি এবং উদ্ভিদরা। তারা খাপ খাইয়ে উঠতে না পেরে ধীরে ধীরে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তবে খুশির খবর এটাই, এমন একটি উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে যা শেষ দেখা গিয়েছিল ১৮৭৫ সালে!

শুনতে সত্যিই অবাক লাগছে, তাই নয় কি? বিলুপ্ত হওয়ার পর ফিরে আসা কী সম্ভব! আসলে প্রকৃতির চাইলে সবই সম্ভব। বোটানি লেটার্স জার্নালের-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেরল এবং পুনের একদল উদ্ভিদবিদ সিকিমের তিস্তা নদীর উপত্যকায় খুঁজে পেয়েছেন বহু বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া এক প্রজাতির অর্কিডকে। অর্কিডের এই প্রজাতির বিজ্ঞান সম্মত নাম হল ‘গ্লোব্বা অ্যান্ডেরসনাই’ (Globba andersonii)। আরও জানা গিয়েছে এই অর্কিডের চলতি নাম ‘ডান্সিং লেডিজ’ (Dancing Ladies) বা ‘সোয়ান ফ্লাওয়ার’ (Swan flower)।   

এই অর্কিডগুলি হলুদ বর্ণের, মূলত পাহাড়ি এলাকার পাথুরে নদীর উপত্যকাই এদের জন্মানোর জন্য উপযুক্ত। স্কটিশ উদ্ভিদবিদ থমাস অ্যান্ডারসনের লেখা থেকে জানা যায়, সিকিম এবং দার্জিলিংয়ে এই উদ্ভিদের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল ১৮৬২-৭০ সাল পর্যন্ত। এর পর তার শেষ দেখা মেলেছিল ১৮৭৫ সালে, ব্রিটিশ উদ্ভিদবিদ স্যার জর্জ কিং সিকিম থেকে এই গাছ সংগ্রহ করেছিলেন। তার পর এই গাছের কোথাও সন্ধান মেলেনি।

শেষে ২০১১ সালে বোটানি লেটার্স জার্নালের সহ প্রতিবেদক সচিন পুনেকর, সেভক হিল ফরেস্ট থেকে ১৩৬ বছর পর এই অর্কিডের সন্ধান পেয়েছিলেন। সম্প্রতি এই ডান্সিং লেডিজ বা সোয়ান ফ্লাওয়ারের একটি নতুন প্রজাতি, নাম ‘জি-তিস্তা’ (G. teesta) –এর সন্ধান পাওয়া গেছে পশ্চিমবঙ্গে। তবে দীর্ঘদিন গবেষণার পরেই উদ্ভিদবিদরা এটিকে গ্লোব্বা অ্যান্ডেরসনাই প্রজাতির উদ্ভিদ বলে চিহ্নিত করেছেন।

ছবিঃ উইকিপিডিয়া, নেক্সট ইয়াস