গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|

লাগামছাড়া ভাবে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এতদিন লকডাউন জারি থাকায় কিছুটা হলেও সংক্রমণে হ্রাস টানা গিয়েছিল। কিন্তু এবার ধীরে ধীরে খুলবে সব কিছুই। এমনিতেই লকডাউন চলাকালীন বহু জায়গায় তা অমান্য করা হয়েছে, এছাড়াও কিছু মানুষের অসতর্কতার জন্য সহজেই ছড়িয়েছে সংক্রমণ। আর এবার অফিস, বাজার, ধর্মীয় স্থান, দোকানপাট, যানবাহন, শপিং মল, রেস্তোরাঁ একে একে সবই খুলতে শুরু করছে। অর্থাৎ মানুষজনের বাড়ির বাইরে যাতায়াত বাড়বে। ফলে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাটাও বাড়তে দ্রুত।

তবে হ্যাঁ, ভারতে এখনও পর্যন্ত গোষ্ঠী সংক্রমণ বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়নি। কিন্তু লকডাউনের এই চতুর্থ দফা শেষ হলেই করোনার সংক্রমণের হার শীর্ষে পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উঠে আসল ভয়ংকর একটি তথ্য, নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ভারতের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে পড়বে। শুধু তাই নয়, এর মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষ বুঝতেই পারবে না তারা করোনা আক্রান্ত! এমনটা জানিয়েছেন ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেল্থ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্স (NIMHANS)-এর নিউরো ভাইরোলজির প্রধান এবং কর্ণাটক হেল্থ টাস্ক ফোর্সের নোডাল আধিকারিক ডঃ ভি রবি ।

জুন মাস থেকে লকডাউন উঠে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, তার উপর বিভিন্ন রাজ্যগুলিতে বুহু ক্ষেত্রেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে। যেমন, ১ জুনের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গেও অনেকাংশে শিথিল হতে চলেছে লকডাউন। যেহেতু স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে চলেছে মানুষের জীবন, সেখানেই বাড়ছে সংক্রমণের ভয়। বিশেষত গোষ্ঠী সংক্রমণ। কারণ এই পর্যায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়াবে এবং তা ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে। এমনটাই মনে করছেন ডঃ ভি রবি। তিনি আরও জানিয়েছেন, “ ভারত এখনও করোনা সংক্রমণের তীব্রতা দেখেনি। আগামী মাস থেকেই তুমুল ভাবে বাড়বে সংক্রমণের হার। দেশে শুরু হবে গোষ্ঠী সংক্রমণ।”

আরও ভয়ের কারণ ৯০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হয়েও বুঝতে পারবে না তারা করোনা আক্রান্ত। কারণ তাদের মধ্যে কোনোরকম উপসর্গ দেখা দেবে না। তবে এক্ষেত্রে গুরুতর অবস্থায় ৫ শতাংশ রোগীকেই ভেন্টিলেশনে রাখতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সুতরাং সংক্রমণ বাড়লেও মৃত্যু হার থাকবে ৩ থেকে ৪ শতাংশ। কিন্তু গুজরাটের ক্ষেত্রে সেই হার বেড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তাই চিকিৎসা পরিকাঠাম আরও সুরক্ষিত করতে হবে। আরও বেশি পরিমাণে করোনার টেস্ট করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ডঃ ভি রবি। সঙ্গে করোনা টেস্টের জন্য কর্নাটকে ১৫টি নতুন ল্যাব চালু করেছেন তিনি।   

আরও জানা গিয়েছে, করোনার ভ্যাকসিন হাতে পেতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত। এছাড়া এই রোগের নির্দিষ্ট কোন ওষুধও আবিষ্কার হয়নি। যদিও সে নিয়ে গবেষণার খামতি নেই। বিভিন্ন উপায়ে চলছে পরীক্ষানিরীক্ষা। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভালো ফলও আসছে। তবে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে, কারণ এই ভাইরাস সহজে যাওয়ার নয়। তাই এই পরিস্থিতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করে চলুন। নিজেকে সুস্থ রাখতে কড়া ভাবে মেনে চলুন প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধগুলি।  

তথ্যসূত্রঃ নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ছবিঃ পিক্সাবে