গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
বিশ্ব জুড়ে করোনার তাণ্ডব। প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে সংক্রমিতের সংখ্যা, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু হারও। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই মারণ ভাইরাসের কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। চলছে বিভিন্ন গবেষণা। বিবিধ উপায়ে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে, বহু রোগী সুস্থ হয়েও উঠছেন। ওয়ার্ল্ডো মিটারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে মোট ১৭৫,৪৩৪ জন মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ৮২,৯৪৫ জন। তবে বলা বাহুল্য, ভারতে শুরু থেকে দীর্ঘদিন টানা লকডাউন জারি থাকার ফলে সংক্রমণের হার অনেকাংশে কম। কিন্তু সেই লকডাউনের মেয়াদ খুব শিঘ্রই শেষ হতে চলেছে। ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে বাজার, দোকানপাট, অফিস ইত্যাদি। চলতে শুরু করেছে বিভিন্ন যানবাহন। তা বলে এই নয় যে, করোনার ভয় নেই। বিশেষজ্ঞদের দাবি এই ভাইরাসকে চিরতরে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। সুতরাং আমাদের এর সঙ্গে লড়াই করেই বেঁচে থাকতে হবে। তাই লকডাউন উঠলে করোনা সংক্রমণের সম্ভবনা আরও বৃদ্ধি পাবে, এই পরিস্থিতে বাড়ির বাইরে থেকেও কীভাবে নিজেকে সুস্থ রাখবেন জেনে নিন।
এতদিনের সহজ-সরল জীবনযাপনের ক্ষেত্রে এবার আনতে হবে অনেক পরিবর্তন। মাস্ক, স্যানিটাইজার, সাবান তো আছেই, এগুলি ছাড়াও মেনে চলতে হবে বেশ কিছু বিধিনিষেধ। লকডাউন উঠলে সংক্রমণ এড়াতে, কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক জেনে নেওয়া যাক –
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে সাহায্য করে এমন শাক-সবজি, দানা শস্য এবং ফল নিয়মিত পাতে রাখুন।
- অফিস ফেরত ব্যাগ বা বাজারের ব্যাগ ব্যবহারের পর প্রতিদিন নিয়মিত ভাবে পরিষ্কার করতে হবে। অফিসের ব্যাগের ক্ষেত্রে ছোট কাপড়ের টুকরোতে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট নিয়ে মুছে নিতে পারেন, এবং বাজারের ব্যাগ সাবান জলে ধুয়ে নিতে হবে।
- যে জামাকাপড় পরে বাইরে যাচ্ছেন, বাড়িতে ফিরে তা কোথাও না রেখে, আগে কেঁচে নেওয়াই ভালো।
- এই পরিস্থিতিতে কোনোরকম অলংকার না পরাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিশেষ করে হাতে গয়নাগাটি না পরাই ভালো, কারণ সব ধাতুতেই এই ভাইরাস দীর্ঘক্ষণ সক্রিয় থাকতে পারে।
- মোবাইল ফোন নিয়ে বাইরে যাতায়াত করলে তা ব্যাগে রাখুন। খুব প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করবেন না। বাড়ি ফিরে নিজের মোবাইল স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করুন। না হলে ফোন থেকেও হতে পারে সংক্রমণ।
- যাদের গাড়ি রয়েছে, বাইরে থেকে এসে সাবান জলে গাড়ি ভালো করে ধোবেন। এছাড়াও সাবান জলে ব্যবহার করতে পারেন কীটনাশক।
- রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে শপিং মল, পার্লার, সেলুন সবই খুলে যাচ্ছে। তবে এই সময় বাইরের খাবার না খাওায়াই ভালো। এছাড়া খুব দরকার না পড়লে বাকি জায়গাগুলিও এড়িয়ে চলুন।
- বাইরে বেরলেই মাস্ক তো পরবেনই, সঙ্গে রাখবেন স্যানিটাইজার এবং ১টা অতিরিক্ত মাস্ক। যা প্রয়োজনে কাজে লাগবে।
- বাস, ট্রামে, ট্রেনে যাতায়াত কালে প্রয়োজনীয় দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব হবে না, তাই যতটা পারবেন মাথা বা চুল ঢেকে বেরবেন। কারণ হাঁচির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ড্রপলেট মাথা বা চুল থেকে হাতে আসবে। সেই হাত নাক-মুখে দিলে হতে পারে সংক্রমণ।
- বারবার গরম জল সেবন করবেন। যদি বাড়ির বাইরে যেতে হয়, তাহলে বেরনোর আগে সঙ্গে করে গরম জল নিয়ে বেরবেন। এটি আমাদের শরীরের জন্য দারুণ উপকারি।
- শুধু হাত পরিষ্কার রাখলেই চলবে না, পায়ের যত্নও নিতে হবে। কাজের সূত্রে বা বাড়ির কাজে বাইরে বেরলে যতটা সম্ভব পা ঢাকা জুতো পরাই ভালো। কারণ রাস্তায় পড়ে থাকা থুতু, কফ বা ড্রপলেট সজেই আমাদের জুতোয় লেগে যায়। সেই থেকে পায়ে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। আর, আমরা সকলেই জানি এই ভাইরাস ৬ ফুট পর্যন্ত ছাড়াতে সক্ষম। তাই সতর্কতা মেনে চলাই শ্রেয়। এছাড়া বাইরে থেকে এসে নিয়মিত জুতো ধুয়ে ফেলবেন, অথবা স্যানিটাইজার স্প্রে দিয়ে পরিষ্কার করবেন।
- হাতে ব্যবহার করতে পারেন গ্লাভস। বিশেষত যারা বাজারে যাবেন বা সারাদিন টাকা-পয়সা ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয় তারা গ্লাভস করাই ভালো। এতে অন্যের হাতের সঙ্গে আপনার হাতের সরাসরি সংযোগ হবে না। এতে সংক্রমণের ভয় কমবে। তবে নিয়মিত সেই গ্লাভস ক্ষার যুক্ত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে, রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
- বাজার করে এনে তা আগে ভালো করে ধোবেন, তার পর তা রান্নার জন্য ব্যবহার করবেন।
ছবিঃ পিক্সাবে
