গল্পকুটির ওয়েব ডেস্ক|

কখনো শুনেছেন গোরস্থানে খাদ্য-পানীয়ের দোকান রয়েছে? ওই সমাধিক্ষেত্রের পাশ থেকে গেলেই শোনা যায় কখনও হাসি, কান্না এবং ফিসফিসানির শব্দ। এদিকওদিকে হেঁটে বেরায় আস্ত শরীরগুলো। না, এগুলো প্রেত-আত্মা নয়। এরা সবাই রক্ত-মাংসের জীবিত মানুষ। এই দৃশ্য দেখা যায় ফিলিপিনসের রাজধানী মেনিলার এক সমাধিক্ষেত্রে। সেখানে বসবাস করে জীবিত মানুষজন।

সমাধিক্ষেত্রটি দেখে আপনার ভয় লাগবে না, মনে হবে যেন আপনি কোনো ছোট্ট গ্রামে এসে পড়েছেন। এখানে গা ছমছমে লাগার কোন চান্সই নেই কারণ জায়গাটি একেবারেই কোলাহলপূর্ণ। এর মধ্যেই রয়েছে বিভিন্ন দোকান এবং রেস্তোরাঁ। তবে এগুলি সবই অস্থায়ী। সামুদ্রিক মাছ থেকে শুরু করে চকোলেট, নুডলস, প্রিপেইড মোবাইল কার্ড, অন্যান্য খাদ্য-পানীয় ছাড়াও সবরকম প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায় সেখানে।

মেনিলার ওই সমাধিক্ষেত্র হাজার হাজার মানষের বাসস্থান। এটি ‘নর্থ সিমেট্রি’ নামে পরিচিত। আনুমানিকভাবে সেখানে বসবাস করেন প্রায় দশ হাজার জন মানুষ! নিজেদের সুবিধার্থে সমাধির উপরে ওঠা-নামার জন্য সামাধিগুলির দেওয়ালে ঝোলানো থাকে মই। এতক্ষণে নিশ্চয়ই অবাক হয়েছেন আপনারা? আর ভাবছেন, কেন এভাবে কবরস্থানে বসবাস করছে এত মানুষ!

আসলে ওই সমাধিক্ষেত্রে বসবাসকারী মানুষগুলোর থাকার কোনও জায়গা নেই। বর্তমানে যারা থাকছে, তাদের বাবা-ঠাকুরদারা কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করছে সেখানে। জানা গিয়েছে, তারা বেশিরভাগই ফিলিপিনসের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে রাজধানী মেনিলায় আশ্রয় নিয়েছিল। তবে থাকার মতো জায়গা পেতে ব্যর্থ হওয়ার তারা আশ্রয় নেয় এই সমাধিক্ষেত্রে। প্রথমে সেখানে এত মানুষের বসবাস ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে এসে থাকতে শুরু করে বহু মানুষ। আর ক্রমে এই কবরস্থান পরিনত হয় একটি গ্রামে।

থাকার পাশাপাশি এখানকার কিছু মানুষ উপার্জনও করে এই সমাধিক্ষেত্র থেকেই। মেলিনায় বসবাসকারী কোনো পরিবারের সদস্য মারা গেলে তারা শেষকৃত্যানুষ্ঠানে নর্থ সেমেট্রিতে আসলে এখানকার কিছু মানুষ ৫০ পেসোর বা ৫০ সেন্টের বিনিময়ে তাদের কফিন বহন করে। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ভাড়া করা হয় কোনো কোনো কবরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতের জন্য। অন্যদিকে কিছু মহিলারা সামাধিগুলো পরিষ্কারের কাজে নিযুক্ত থাকে।

সব মিলিয়ে তারা খুশিতে জীবনযাপন করছে। তাদের কথা ভাবলে মনে হবে যেন মৃতদের মাঝে বেঁচে থাকার এক যুদ্ধ। হ্যাঁ যুদ্ধই বটে! ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বহুবার চেষ্টা করেছে এই মানুষগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু বরাবরাই তারা ব্যর্থ হয়েছেন। কবরস্থান ছেড়ে এই  জীবিত মানুষরা কোথাও যেতে রাজি হয়নি। কথায় আছে যতই কষ্ট হোক ভিটের টানই আলাদা।  

ছবিঃ পিক্সাবে