গল্পকুটির ওয়েব ডেস্ক|

২৫ মার্চ ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে কেন্দ্র থেকে ২১ দিন ব্যাপী লকডাউন জারি করা হয়েছিল। ১৩ এপ্রিল, সোমবার সেই লকডাউনের ২০ তম দিন। তবে এই কদিনে কি শুধুই লকডাউন জারি ছিল? না, লকডাউন ছাড়াও করোনার মোকাবিলায় জনস্বার্থে সরকারি তরফে নেওয়া হয়েছিল বেশ কিছু পদক্ষেপ। মোট ২০টি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। কী কী সেই পদক্ষেপ, দেখে নেওয়া যাক।

১. হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রকের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যে সমস্ত দুস্থ পরিবার ৫ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, তাদের তিন মাসের জন্য বিনামূল্যে আটবার সিলিন্ডার রিফিল করা হবে। এছাড়া যারা ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহার করেন তাদের বিনামূল্যে তিনবার সিলিন্ডার রিফিল করা হবে।

২. করোনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি তরফে ‘আরোগ্য সেতু’ বলে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত যেকোনো সরকারি পদক্ষেপ সম্বন্ধে জানা যাবে এই অ্যাপের মাধ্যমে ।

৩. উজ্জ্বলা প্রকল্পের আওতাভুক্ত ৮.৩ কোটি দরিদ্র মহিলাকে, আগামী তিন মাস নিখরচায় এলপিজি সিলিন্ডার রিফিল করে দেওয়া হবে।

৪. সারা ভারত জুড়ে সরকারি তরফে প্রায় ২০ লক্ষ ‘সুরক্ষা স্টোর্স’ খোলার পরিকল্পনা হয়েছে। যেখানে নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যাবে। এই স্টোরগুলিতে যে সকল কর্মীদের নিয়োগ করা হবে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

৫. কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক রমেশ পোখরিয়াল, ১২ এপ্রিল যুক্তি (YUKTI) নামক একটি ওয়েবসাইট খুলেছেন যেখানে করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত সরকারি পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে করোনা সংক্রমণ রুখতে নানা রকম তথ্য জানা যাবে।

৬. কেন্দ্রীয় মন্ত্রক থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, এই লকডাউন পরিস্থিতির জন্য ব্যক্তি ও বাণিজ্য গোষ্ঠী মিলিয়ে ৮ হাজার কোটি টাকার আয়কর ছাড় দেওয়া হবে।

৭. এমজিএনআরইজিএ – এর আওতায় যারা রয়েছেন তাদের মজুরি ১৮২ টাকা থেকে বাড়িয়ে দিয়ে ২০২ ঢাকায় আনা হয়েছে। এর ফলে শ্রমিকরা মাস গেলে অতিরিক্ত ২০০০ টাকা উপার্জন করবেন।

৮. মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী গুলিকে কোল্যাটারাল ফ্রি লোনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে ২০ লক্ষ টাকা করা হবে।

৯. অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন গত মার্চ মাসে ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার একটি ত্রাণ তহবিল তৈরীর ঘোষণা করেছেন।

১০. লকডাউন এর মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনা থেকে প্রায় ৬ কোটির বেশি উপকার পেয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রথম পর্বে কৃষক দেওয়ার জন্য ১৩, ৮৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

১১. ৩০৬৬ কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে ২ কোটির বেশি নির্মাণকারীদের আর্থিক সহায়তার জন্য।

১২. ২ কোটি ৮২ লক্ষ বিশেষভাবে সক্ষম, বয়স্ক এবং বিধবাদের জন্য ১৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে জাতীয় সমাজকল্যাণ প্রকল্প থেকে।

১৩. করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের ফলে দেশের এই অবস্থার জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড একাউন্ট থেকে তিন মাসের বেতন একবারে তুলে নেওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে সরকারি তরফে।

১৪. দেশের করুণ পরিস্থিতির জন্য আধার কার্ডের সঙ্গে প্যান কার্ড সংযুক্ত করার সময়সীমা ৩১ মার্চ থেকে বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

১৫. অর্থবর্ষ ২০১৮ থেকে ২০২৯ – এর আয়কর জমা করার তারিখ আগের থেকে বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময় থেকে পরে আয়কর জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে।

১৬. অর্থ মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, জন ধন প্রকল্পের খাতে মোট ৯,৯৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০ কোটি জন ধন প্রকল্পের আওতাভুক্ত মহিলা, সরকারি তরফে তাদের ব্যাংক একাউন্টে ৫০০ টাকা করে পেয়েছেন।

১৭. সামাজিক বিভিন্ন খাতে আর্থিক সহায়তার জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

১৮. ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে মার্চ, এপ্রিল এবং মে মাসের জিএসটি জমা দেওয়ার সময়সীমা। সারা বছরে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় এমন সংস্থার ক্ষেত্রে কোন সুদ নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।

১৯. করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য ৫০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বীমা করা হয়েছে।

২০. এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লক্ষ মেট্রিক টন দানাশস্য বিলি করা হবে, প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার আওতাভুক্তদের জন্য।

ছবিঃ পিস্কাবে