গল্পকুটির ওয়েব ডেস্ক|

বিশ্বজুড়ে করোনা আতঙ্কে কাঁপছে প্রতিটি মানুষ। নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে দেশবাসীদের যাতে তাঁরা সরকার প্রদত্ত সব নিয়ম সঠিকভাবে মেনে চলেন। আর অপরদিকে একদল মানুষ আছেন যাঁরা অহরহ নিজেদের নিয়োজিত করছেন দেশবাসীর সুরক্ষার্থে। এই দুর্দিনে তাঁরা মানুষের পাশে নয় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন সামনে। তাঁদের অবদান যে অনস্বীকার্য সে বিষয়ে নেই এতটুকু দ্বিমত। করোনার সংকটকালীন সময়ে পুলিশ, চিকিৎসক ও আধিকারিকদের মানবিক মুখ একের পর এক বেরিয়ে এসেছে। এই ধরনের এক নারী কর্মকর্তা হলেন  শ্রীজনা গুম্মালা। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের বৃহত্তর বিশাখাপত্তনমের মিউনিসিপাল কমিশনার। এই অফিসিয়াল পরিচিতি ছাড়া বর্তমানে নেটিজেনরা তাঁকে এক নতুন নাম দেয় – সুপারওম্যান।

আইএএস অ্যাসোসিয়েশনের একটি টুইট থেকে জানা গিয়েছে, ‘বিশাখাপত্তনমের কমিশনার শ্রীজনা গুম্মালা কোনোরকম মেটারনিটি লিভ ছাড়াই তাঁর এক মাসের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় ডিউটিতে ফিরেছেন।’ আইএএস অ্যাসোসিয়েশনের এই টুইট থেকেই সামনে আসে সম্পূর্ণ বিষয়টি।

কোভিড -১৯ এর কারণে পুরো দেশে চলছে লকডাউন। এমন পরিস্থিতিতে ২৪ ঘন্টা কাজ করে এমন একটি বড় বিভাগ হ’ল পৌর কর্পোরেশন বিভাগ। ওই বিভাগের কমিশনার শ্রীজনা গুম্মালা গত মাসে এক সন্তানের জন্ম দেন। ফলত তিনি ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পান, তবে ছুটি নিতে অস্বীকার করে মাত্র ২২ দিনের শিশু সন্তানকে নিয়ে ডিউটিতে যোগ দেন তিনি। নবজাতক‌ শিশুকে নিয়ে অফিসের জরুরি ভিত্তিতে নিজের কর্মে এখনো অবিচল এই আইএএস। দেশের এই সংকটকালীন অবস্থায় নিজের  মাতৃত্বকালীন ছুটি ত্যাগ করেন তিনি। সন্তান প্রসবের এক মাসের মধ্যেই অফিসে যোগ দেন। মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করতে সবেমাত্র শুরু করেছিলেন তিনিও আর বাকি পাঁচ নারীর মতোই, কিন্তু তাঁর মধ্যেই তিনি কাঁধে তুলে নেন রাজ্যবাসীর দায়িত্ব। একদিকে কোলে তাঁর সদ্যোজাত সন্তান, অন্যদিকে পেশাগত কর্তব্য পালন করে চলেছেন নিষ্ঠার সাথে।

২০১৩ সালে আইএএস পাশ করেন শ্রীজনা। তিনি জানান যে, ‘এই জরুরি অবস্থায় জনগণকে পরিষ্কার জল সরবরাহ এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি এ-ও বলেন যে অফিসার হিসাবে তিনি কঠোর হলেও মা হিসাবে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এই দু’য়ের ভূমিকাই তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বক্ষণ কঠোর পরিশ্রম করছেন রাজ্যকে বিপদমুক্ত রাখতে, সেখানে কেন তিনি কিছুটা অবদান রাখতে পারবেন না।‘ তাই সেই চেষ্টায় তিনিও নিজেকে নিয়োগ করেন তিনি। তাঁর এই কর্মযজ্ঞে সহযোগিতা পেয়েছেন আইনজীবী স্বামীরও। এমন নারীকে তথা মা-কে কুর্নিশ। 

ছবিঃ আইএএস অ্যাসোসিয়েশন টুইটার