গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক।

সারা বিশ্ব জুড়ে বসবাসকারী অসংখ্য জনজাতীর জীবনধারা, অভ্যেস এবং তাঁদের রীতি-নীতির বিষয়ে যতই জানা যায় ততই অবাক হতে হয়। কিছু কিছু জনজাতির প্রথা বা সংস্কৃতি আবার খুব স্পর্শকাতরই বটে। যা অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হতে পারে। অনেকে আবার একে মধ্যযুগীয় বর্বরতা বলে মনে করতে পারেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও আজও বিশ্বের নানা প্রান্তে এমন সব প্রথা বা রীতিনীতি চালু রয়েছে যা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, অমানবিকও বটে। আফ্রিকা মহাদেশের নাইজেরিয়ায় অবস্থিত একাধিক অঞ্চলের রীতি অনুসারে অর্থের বিনিময়ে সেখানে কিনতে পাওয়া যায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের। যাকে প্রচলিত ইংরেজিত বলা হয় ‘মানি ওয়াইফ’।

জানা যায় নাইজেরিয়ার ক্রস রিভার রাজ্যের অবানলিকু এলাকার বিসিভ আদিবাসীদের মধ্যে এই ধরণের সংস্কার আজও লক্ষ্য করা যায়। আদিবাসীদের নামানুসারেই এই গ্রামের নামও বিসিভ। সেখানে এমন বর্বরোচিত আচরণ-এর খবর যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন সারা বিশ্বজুড়ে এই নিয়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। তবে এই নিয়ে বিস্তারিত জানতে আপনাদের জানতে হবে আরও কিছুটা আগে থেকে।

অবুধা পর্বতের কোলে এই গ্রামকে ঘুমন্ত গ্রাম (sleepy village) হিসাবে অভিহিত করা হত। গ্রামের নাম এমন শান্ত-স্নিগ্ধ হলেও এখানকার দাসবৃত্তির বিষয়ে জানলে খুবই অবাক হতে হয়। এখানকার প্রথা অনুসারে, এখানকাম মেয়েদের বয়স পাঁচের কোঠা পেরোলেই তাদের বাবা-মা কোনো বয়জ্যেষ্ঠ পুরুষের সঙ্গে তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয় যে, অর্থের লোভেই বাবা-মায়েরা নিজেদের সন্তানদের এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনের দিকে এগিয়ে দিচ্ছে। তবে আজ আর এই প্রথার প্রচলিত নেই বলেই দাবি করে সেখানকার আদিবাসী নেতারা। তবে আজও খুঁজলে দেখা যায় যে,  এখনও আদিবাসী দলের গোষ্ঠীপতিদের একাধিক অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী রয়েছে!

বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ছোট ছোট শিশুদের দুর্গতির আর শেষ থাকে না। সাম্প্রতিক এক ঘটনা থেকে জানা যায় এক পাঁচ বছরের শিশুকন্যার বিয়ের পর তার ওপর নেমে আসে নরক যন্ত্রণা। ছোট্ট শিশুটির ওপর অমানবিক যৌন নির্যাতন করত তার স্বামী। একসময় অবশেষে তাকে বাঁচায় স্থানীয় এক মিশনারি সংস্থা। এখন সেই মিশনারি সংস্থাই মেয়েটির দায়িত্ব নিয়েছে, সে এখন সেখানেই থাকে। এইভাবে বহু মেয়েকেই তাদের ‘মানি হাজব্যেন্ড’-এর কাছ থেকে উদ্ধার করে এনেছে স্থানীয় মিশনারী সংস্থা। এমনও ঘটনা ঘটেছে যে একই পরিবারের একাধিক মেয়েকে ‘মানি ওয়াইফ’ বানিয়েছে কোনও আদিবাসী। এক মেয়েকে বিয়ে করার পর তাকে বিবাহ বিচ্ছেদ করে আবার তারই দিদিকে বিয়ে করেছে কোনও গোষ্ঠীপতি। সেক্ষেত্রে তার মনে হয়েছে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী মেয়েটির চেয়ে যে বেশি বয়সী মেয়ে সন্তান জন্ম দিতে পারবে। তাই কমবয়সী মেয়েদের বিচ্ছেদ করে দিয়ে ফের তারই দিদিকে টাকার বিনিময়ে বউ বানিয়ে নেয়।

সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, এইসব মেয়েরা নামেই বউ, আসলে এদের সঙ্গে পণ্যের মতো আচরণ করা হয়, যাদের নিয়ে কেনা-বেচা করা যায়, ভাল না লাগলে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া যায়। মেয়েদের বিয়ে করার ক্ষেত্রে পুরুষদের হাতে অনেক অপশন থাকে। এই যেমন ধরুন, বাজারে গিয়ে আলু-পটল কেনার মতো, মেয়েদের দেখে, ছুঁয়ে, বেছে কিনে আনতে পারে পুরুষরা। এরপর প্রতিরাতে ঘরের দরজা বন্ধ করে চালানো হয় অকথ্য যৌন অত্যচার। যৌন সম্পর্ক গড়তে রাজি না হলে চলত চরম মারধরও। এমনকী প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হত। আর এসবের মাঝে অল্প বয়সেই গর্ভবতী হয়ে পড়ে কিশোরী মেয়েরা। এরপর সন্তান হওয়ার পর অনেকেই তাদের দায়িত্ব অস্বীকার করত। এরপর শুরু আবার আর এক লড়াই। তবে এইসব নারকীয় অত্যাচারের ঘটনা আজ অবশ্য অস্বীকার করেন বিসিভ সম্প্রদায়ের গোত্রপতিরা। তবে বাস্তবের নজির সম্পূর্ণ অন্য কথাই বলে। সবথেকে অবাক লাগে ২০২০ সালে এসেও সারা বিশ্বজুড়ে মেয়েরা যখন এমন অগ্রগতির পথে এগোচ্ছেন, তখন কোনও এক অন্ধকার কোণায় আজও চরম অবমাননার স্বীকার হচ্ছেন নারীরা।