গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
‘মেয়ে মানেই যে নম্র! তারা ভারী কাজ পারে না। তাই ঘরের কাজই তাদের জন্য ঠিক আছে।’ এই বদনাম বহু দিন ধরে বহন করে আসছে মেয়েরা। সেটাও তো কম ভারী নয়! সেই দিক থেকে মালপত্রের ভার বহন করা অনেকটাই সহজ কাজ বটে। তবে আপনি কখনও রেল স্টেশনে মহিলা কুলি দেখেছেন? নিশ্চয়ই তেমন কোনও দৃশ্য আপনার চোখে পড়েনি। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের কাটনি রেলওয়ে স্টেশনে গেলে কুলির চিত্রটা একটু বদলে যায়। কারণ সেখানে পুরুষ কুলিদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিশ্রম করেন একজন মহিলা কুলি। নাম সন্ধ্যা মারাভি।
জবলপুরের কুন্দম গ্রামের বাসিন্দা সন্ধ্যা। পরনে লাল রঙের পোশাক, হাতে ৩৬ নম্বর ব্যাজ লাগিয়ে বহন করেন ভারী ভারী মালপত্র। সন্ধ্যাই ভারতের প্রথম মহিলা কুলি। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে তার এই পেশায় আসা। তবে শখে তিনি এই পেশা বেছে নিয়েছিলেন তেমনটা নয়। ওই বছরেই সন্ধ্যার স্বামী মারা যান। ফলে সংসারের হাল ধরতে হয় সন্ধ্যাকেই। তার বৃদ্ধা শাশুড়ি এবং তিন সন্তানের দায়িত্ব নিতে কুলির পেশা বেছে নেন তিনি। সেই থেকে আজও পিতৃতান্ত্রিক সমাজের সমস্ত গতানুগতিক ধারণা ভেঙে লড়ে চলেছেন সন্ধ্যা।
৫ জনের পরিবারে সন্ধ্যা একাই উপার্জন করে সংসার চালাচ্ছেন। ঘর ও বাহির দুটোই সামলাতে হয় তাকে। প্রতিদিন বাড়ির যাবতীয় কাজ করার পর, প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ যাত্রা করে কাটনি রেলওয়ে স্টেশনে যায় সন্ধ্যা। সেখানে প্রায় ৩৯ জন পুরুষ কুলির সঙ্গে মালপত্র বওয়ার কাজ করেন তিনি। এমনকি ভারতীয় রেল সন্ধ্যার এই কাজে গর্বিত হয়ে তার বেশ কিছু ছবি টুইটারে শেয়ার করেছেন। তবে দুঃখের বিষয় সেই ছবি দেখে, অনেকেই গর্বিত না হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, মেয়ে মানুষ হয়ে কুলির মতো কঠিন কাজ না করাই উচিত। বলা বাহুল্য যে নিজে উপার্যন করে সংসার চালায়, তার কী করা উচিত, কী নয়, তা অন্যদের থেকে সে নিজেই ভাল বুঝবে।
ছবি সৌজন্যেঃ মিনিস্ট্রি অব রেলওয়েস এবং উইকিপিডিয়া

কমেন্টস
salute her, it should a learning for our society to respect women