গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
সারা বিশ্বে এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যার ভৌগলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে রহস্যের অন্ত নেই। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে সেই সকল স্থানগুলির রহস্য ভেদের চেষ্টা। যার ব্যখা দিতে বহু ক্ষেত্রেই বিফল হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তবে বর্তমানের আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বহু আজানাই জানা সম্ভব হয়েছে। আর রহস্য নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই যার নাম আসে তা হল ভারতবর্ষ। এদেশে রহস্যের কমতি নেই। এখানে এমন কিছু স্থান রয়েছে যেগুলির আশ্চর্যজনক কাহিনি আজও আমাদের কাছে অজানা। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই সকল রহস্যময় স্থানগুলি সম্পর্কে।
- লাদাখের কঙ্কা-লা-পাস
প্রায় ১৬,৯৭০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন কঙ্কা-লা-পাস টিলা ভারতের বিখ্যাত স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম একটি। এটি ভারত এবং চিনের মধ্যেকার একটি বিতর্কিত অঞ্চল। তবে এই বিতর্কের জন্যই স্থানটি বিখ্যাত হয়ে ওঠেনি। এই অঞ্চল ঘিরে রয়েছে রহস্যের জাল। শোনা যায় ইউএফও এবং বিচিত্র ধরণের যন্ত্রমানবের দেখা মেলে এই অঞ্চলে। সেই কারণেই ওই এলাকার বাসিন্দাদের দৃঢ বিশ্বাস কঙ্কা-লা-পাস হল ভিন গ্রহীদের বসস্থান। তবে আদৌ তা সত্যি কি না সে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই।
- রাজস্থানের করনি মাতা মন্দির
এটি রাজস্থানের একটি পবিত্র স্থান। অপরদিকে মন্দিরটি ভারতের রহস্যময় স্থান গুলির মধ্যে একটি। কারণ এই মন্দিরে বসবাস করে প্রায় ২০,০০০ ইঁদুর। মন্দিরের নিয়ম অনুযায়ী ওই ইঁদুরগুলিকে আঘাত করার বা ভয় দেখানোর অধিকার নেই কারোর। ওই এলাকার লোক মনে করেন এই সকল ইঁদুরগুলি হল মন্দিরটির রক্ষক। তারাও সমানভাবে পূজনীয়। এই কারণে তারা মানুষের থেকেও বেশি প্রাধান্য পায় এই মন্দিরে। জানা যায়, পৌরাণিক মতে এই ইঁদুরগুলি হল করনি দেবীর পরিবারের সদস্যদের পুনর্জন্ম হওয়া রূপ।
- অন্ধ্রপ্রদেশের লিপাকশী মন্দির
ভারতের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক এবং পবিত্র স্থান হল অন্ধ্রপ্রদেশের লিপাকশী মন্দির। মন্দিরটি তার অপূর্ব স্থাপত্য ও চিত্রকলার জন্য পরিচিত। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল এই শিব মন্দিরটিতে এমন একটি পিলার আছে যা ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন। হ্যাঁ এটাই সত্যি! এখানে মোট ৭০টি পিলারের মধ্যে একটি পিলার বাতাসে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। ওই পিলারটিতে আলাদা ভাবে কোনও সাপোর্ট দেওয়া নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা মন্দিরটিতে আসলে সেই হ্যাংগিং পিলারের নিচে থেকে তাদের পুজর সামগ্রী আদান-প্রদান করেন। তাদের তীব্র বিশ্বাস এটি করলে তাদের জীবনে সমৃদ্ধি আসবে। তবে তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখলে জানা যাবে এই হ্যাংগিং পিলারের রহস্যের পিছনে লুকিয়ে আছে কিছু প্রতিভাবান নির্মাতাদের কায়দা-কৌশল।
- কেরলের ইদুক্কি
পশ্চিমঘাত পর্বতমালার ঝকঝকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থেকে বিচ্ছিন্ন একটি জঙ্গল হল ইদুক্কি বা রেড রিজিয়ন। এই অঞ্চলটিও ভারতের একটি রহস্যময় এলাকা বটে। এখানকার সিক্রেট হল লাল বর্ণের বৃষ্টিপাত। এই ধরণের বৃষ্টি ইদুক্কিতে প্রথম হয়েছিল ২৫ জুলাই, ২০০১ সালে। প্রায় ২ মাস টানা এই অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। আরও আশ্চর্যের বিষয় ওই এলাকার বাসিন্দারা যখন সেই লাল জল কোনও পাত্রে ভরে রাখে। তখন সেই পাত্রে লাল বর্ণের পার্টিকেলগুলি নিচে থিতিয়ে গিয়ে উপরে পরিষ্কার জল ভেসে ওঠে। বিজ্ঞানীরা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই বিষয়ে মন্তব্য করেন যে, এই লাল বৃষ্টির কারণ হল ওই অঞ্চলের বায়ুতে সৃষ্ট একপ্রকার পানা। যা শুধুমাত্র ওই অঞ্চলেরই অন্তর্গত।
- উত্তরাখন্ডের চামোলীর রূপকুন্ড লেক
১৬,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত লেক রূপকুন্ড। তবে এই লেকে গিয়ে অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে থাকেন। এখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মানব কঙ্কালের দেখা পাওয়া যায় । প্রতি বছর যখন রূপকুন্ড লেকের বরফ গলতে থাকে তখনই বেরিয়ে আসে কঙ্কালগুলি। কঙ্গাল্গুলির রেডিওকার্বন পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক রিপোর্ট অনুযায়ী এই মৃতদেহগুলি ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ পুরনো। স্থানীয়রা মনে করেন এই মৃতদেহ গুলির সাথে সম্পর্ক রয়েছে কনৌজের রাজা ও রানীর। যারা একটি তীর্থ যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন, কিন্তু যাত্রা পথে এক ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে তাঁরা এই রূপকুন্ডে নিমগ্ন হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন।
ভারতে এই ৫টি স্থান ছাড়াও আরও অনেক আশ্চর্যজনক স্থান রয়েছে। যা নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে। চাইলে আপনারাও দেখে আসতে পারেন সেই সকল জায়গাগুলি।






কমেন্টস
খুব সুন্দর লাগল।