গল্প কুটির ওয়েব ডেস্ক|
চিড়িয়াখানার চেনা চিত্রটা যদি হঠাৎ পাল্টে যায়! সদস্য হিসাবে জীবন্ত প্রাণী নয় থাকে যদি মৃত পশু! হিংস্র জীবের হুংকারের বদলে যদি থাকে জড়-র স্থিরতা। হ্যাঁ, সত্যিই রয়েছে এরকমই একটি চিড়িয়াখানা, মধ্যপ্রাচ্যের গাজায়, নাম সাউথ ফরেস্ট পার্ক। এই চিড়িয়াখানার চারিদিক অনেকটাই স্তব্ধ, পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলে নজরে পড়বে পাখি, বানর, বাঘ, সিংহের নিথর দেহ। যেন এক ধ্বংসাবশেষের জ্বলন্ত চিত্র।
বাড়ির কচিকাঁচাই হোক বা গুরুজনেরা, চিড়িয়াখানা কিন্তু সকলের কাছেই হর্ষদায়ক। অনেক হিংস্র প্রাণী যাদের টেলিভিশনের পর্দায় বা ছবিতে দেখে মানুষ তাদের সামনে থেকে দেখার মজাই যে আলাদা! কিন্তু গাজার দক্ষিণপ্রান্তে খান ইউনিস-এ অবস্থিত এই চিড়িয়াখানার বিশেষত্বই হল হিংস্র জন্তুদের মমি। বাঘ, সিংহ, নেকড়ে, কুমির ইত্যাদি প্রাণীর দেহ এখানে সযত্নে রাখা রয়েছে। প্রায় ১২ বছর বয়স এই চিড়িয়াখানার, চালু হয় ২০০৭ সালে। বাঘ, সিংহ, উটপাখি সহ মোট ৬৫টি প্রাণী জায়গা পায় এই চিড়িয়াখানাটিতে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত যেমন এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, ইজিপ্ট, প্যালেসতাইন ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রাণী সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিল এখানে।

কিন্তু পরবর্তীকালে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধের কারণে কোনোরকম রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধ প্রাণ কেড়ে নেয় এই চিড়িয়াখানা ও তার বাইরের অনেক পশুপাখিরই। অনাহারে ও মিসাইল স্ট্রাইকে মারা যায় প্রায় সবকটি প্রাণী। মিসাইল থেকে নির্গত দূষিত পদার্থ বাতাসে মিশে বাতাসকে করে বিষাক্ত ও প্রাণীরা অসুস্থ হতে থাকে একে একে। কিন্তু তৎক্ষণাৎ সাহায্য পাওয়া যায়নি কোনো পশুচিকিৎসকের কাছ থেকেই। ফলে নিষ্পাপ প্রাণগুলি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ক্রমশ। একমাত্র একটি বাঘই বেঁচে ছিল শেষপর্যন্ত, তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বাঘটিকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন চিড়িয়াখানার মালিক মহম্মদ আওয়ায়েতা। বাঘটিও তখন মৃতপ্রায় অবস্থাতেই ছিল। প্রাণীটির মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল তেইশ হাজার ডলার। বাকি মৃত প্রাণীদের তারপর মমি করে সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেন মালিক। নিজে হাতে ট্যাক্সিডার্মি পদ্ধতিতে মমি তৈরী করে তাদের অস্তিস্ত্ব বজায় রাখেন মহম্মদ।

তবে শেষ এখানেই নয়, শেষ থেকে আবার শুরুর স্বপ্ন দেখেন মহম্মদ। প্রাণহীনের মাঝে নতুন প্রাণকে জায়গা করে দিতে চান তিনি। সমগ্র বিশ্বে তাঁর এই চিড়িয়াখানা এক ও অদ্বিতীয় করার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি একে একে আনছেন জীবন্ত আকর্ষণ। বর্তমানে মমিগুলি ছাড়া এই চিড়িয়াখানার সম্পদ হল অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা একটি বাঘ ও আফ্রিকা থেকে আনা সিংহ। এই দুটিকেই আনা হয়েছিল অনেক কম বয়সে যখন তাদের ওজন ছিল মাত্র দুই কেজি। কিন্তু তাদের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ যথেষ্ট বেশি, তাই বর্তমানে চিড়িয়াখানার মোট সদস্যসংখ্যাও কম। তবে সময়ের সাথে সাথে আরো অনেক নতুন প্রাণী আনার পরিকল্পনা করছেন মালিক যা হয়তো মানুষকে আরো আনন্দ দেবে ও তাঁদের পশুপাখির খরচও চালাতে সুবিধা হবে। চিড়িয়াখানাটি হয়ে উঠবে বাকিদের থেকে অন্যরকম। বিশ্বের সব প্রান্তে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন যাঁরা দেখেন তাঁদের কাছে এই চিড়িয়াখানা এক অন্যতম আকর্ষণ বটে !
ছবি সৌজন্যেঃ অপসিং ভিউস, টিএনএইট টিভি, এপি ও মিডল ইস্ট আই
